
হাওড়া সেতু। ফাইল চিত্র।
শেষ আপডেট: 6 January 2024 16:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার সন্দেশখালিতে ইডি আধিকারিকদের হামলার ঘটনার প্রতিবাদে প্রথম থেকেই সুর চড়িয়েছিল বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারী থেকে সুকান্ত মজুমদার, বিজেপি নেতারা ঘটনার নিন্দা করে, বাংলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। শনিবার ওই ঘটনার প্রতিবাদে পথে নাম বিজেপি। হাওড়া ব্রিজের ওপর বসে বিক্ষোভ দেখান বিজেপির নেতা-কর্মীরা। আর তার জেরেই অবরুদ্ধ গোটা হাওড়া ব্রিজ।
শুক্রবার সন্দেশখালিতে রেশন দুর্নীতির তদন্তে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন ইডির অফিসাররা। ত়ৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তাঁরা তল্লাশিতে গিয়েছিলেন। নেতার অনুগামী ও গ্রামবাসীদের একাংশ তাঁদের বেধড়ক মারধর করে। মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। সেইসঙ্গে ইডি আধিকারিকদের গাড়িতেও ভাঙচুর চালানোও হয়। শেষমেশ কেউ কলাবাগান দিয়ে, কেউ ধান ক্ষেত দিয়ে ছুটে পালিয়ে প্রাণ বাঁচান অফিসাররা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। আক্রান্ত ইডি অফিসারদের প্রতি সহানুভূতি অনেকেরই রয়েছে। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় গতকাল বারবার এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেইসঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বিজেপি নেতৃত্ব ছাড়াও রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন। কড়া পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন বোস।
শুক্রবারের ইডি অফিসারদের ওপর হামালার ঘটনার প্রতিবাদের শনিবার সকাল থেকেই জেলায় জেলায় বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। নদিয়া, রায়গঞ্জের পথে বিজেপি বিক্ষোভ দেখা যায়। শুধু জেলায় নয়, বিক্ষোভের আঁচ এসে পড়ল কলকাতাতেও। এদিন বিকেল চারটে নাগাদ হাওড়া ব্রিজের ওপর বসে পড়েন বহু বিজেপি কর্মী। তাঁদের দাবি, সন্দেশখালির ঘটনায় দোষীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে শাস্তি দিতে হবে।
হাওড়া ব্রিজের ওপর এই অবস্থান-বিক্ষোভের জেরে স্তব্ধ হয়ে গেছে যান চলাচল। হাওড়া থেকে কলকাতামুখী ও হাওড়া থেকে কলকাতামুখী কোনও বাস-গাড়ি যাতায়াত করতে পারছে না। উভয় দিকের রাস্তা বন্ধ। এই ঘটনার ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষরা।