
Asim Sarkar, BJP MLA
শেষ আপডেট: 12 March 2024 14:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিএএ নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ায় আনন্দে আত্মহারা বিজেপির হরিণঘাটার বিধায়ক অসীম সরকার। মঙ্গলবার হরিণঘাটার বাড়িতে মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রায় এক হাজারজনকে নিমন্ত্রণ করে খাওয়াচ্ছেন পদ্ম শিবিরের এই বিধায়ক। নিমন্ত্রিতদের মাংসভাত খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার হরিণঘাটার বাড়ি থেকে টেলিফোনে বলেন, ‘হরিবোল! আজ আমার বাড়িতে মহোৎসব চলছে। তবে আজ খিচুড়ি মহোৎসব নয়। আজ মাংস মহোৎসবের আয়োজন করেছি। মতুয়া ভাই-বোনেরা এসেছেন। মাংস ভাত খেয়ে সবাই মিলে আনন্দ করছি। হরিবোল।’
হরিণঘাটার বিধায়ক অসীম সরকার পেশায় পালাগান শিল্পী। দল নিয়ে রাজ্যের নানা প্রান্তে ছুটে বেড়ান। রাজনীতির কথাও পালাগানের মাধ্যমে তুলে ধরেন। উদ্বাস্তু, বিশেষ করে মতুয়াদের নাগরিকত্বের দাবি নিয়ে তাঁর অসংখ্য পালাগান আছে। বিধানসভার অধিবেশন কক্ষেও একাধিকবার গান শুনিয়েছেন হরিণঘাটার এই বিজেপি বিধায়ক।
মতুয়া সম্প্রদায়, বিশেষ করে পালাগান শিল্পীদের মতো তিনিও কথার শুরু এবং শেষে ‘হরিবোল’ বলে থাকেন। ফোনেও তাই। কল রিসিভ করেই বলেন, ‘হরিবোল’। অপরপ্রান্ত থেকে কেউ তাঁর সঙ্গে তাল মিলিয়ে ‘হরিবোল’ বললে বেজায় খুশি হন। বলেন, ‘বাহ্, আপনি তো আমাদেরই লোক।’ আনন্দ উৎসব থেকে শোক, হরিবোল হল হিন্দুদের সমবেত কণ্ঠে ইষ্টনাম জপ। ‘হরিবোল বলরে একবার’ মতুয়া সম্প্রদায়ের জনপ্রিয় গানের অংশ।
মঙ্গলবার দ্য ওয়াল-এর ফোন ধরেও হরিবোল বলে গলা ছাড়লেন অসীম। বললেন, ‘হরিবোল! আমার বাড়িতে উৎসব চলছে। মানত করেছিলাম, সিএএ-র বিজ্ঞপ্তি জারির পর মহোৎসবের আয়োজন করব। এই নিয়ে তিনবার মানত পূর্ণ হল। প্রথম মানত ছিল অটল বিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী হলে মহোৎসবের আয়োজন করব। করেছি। দ্বিতীয় মানত ছিল প্রথম সন্তান যেন পুত্র হয়। সেই বাসনা পূরণ হতে মহোৎসবের আয়োজন করে লোক খাইয়েছি। আজ তৃতীয় মহোৎসব চলছে সিএএ-র বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ায়। আমার লড়াই সফল।’
অসীম যোগ করেন, ‘বুঝতেই পারেন হাজার লোককে মাংস ভাত খাওয়াতে বিপুল খরচ। তাই স্বীকার না করলে অপরাধ হবে, এত সব আয়োজন, খরচখরচা সব কৃতিত্ব আমার স্ত্রী মধুমিতার। তিনি স্কুল শিক্ষিকা। ভাল টাকা বেতন পান। একার হাতে সব আয়োজন করেছেন।’
বিজেপি বিধায়কের বক্তব্য, ‘উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্বের দাবি আদায় ছিল আমার রাজনীতিতে আসার একমাত্র কারণ। সেই দাবি পূরণ হওয়ার আমার কী যে আনন্দ হচ্ছে, বলে বোঝাতে পারব না, হরিবোল!’
কথায় কথায় তিনি বলেন, ‘ভোট মিটলে নাগরিকত্বের জন্য দরখাস্ত নেওয়া শুরু হবে। তার আগে গ্রামে গ্রামে হবে প্রশিক্ষণ শিবির। কীভাবে আবেদন করতে হবে, কোন কোন নথিপত্র জমা করতে হবে, সব শিখিয়ে দেওয়া।’
আপনি মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। আপনিও কি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করবেন? বিজেপি বিধায়কের জবাব, ‘আলবাৎ করব, আমার জন্ম এখানে হলে কী হবে আমার বাবা-মা ওপার থেকে এসেছিলেন। ১৯৪৮-এর ১৯ জুলাইয়ের পর যারা এসেছে তাদের সকলকেই আবেদন করতে হবে।’ তার মানে তো অসম ও বাংলার বহু মানুষকে নাগরিকত্ব চেয়ে আবেদন করতে হবে! অসীম বলেন, তা হবে, আইন তো তাই-ই বলছে।