দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের আগে বছরে তিন বার দু’হাজার টাকা করে কৃষকদের অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল প্রথম মোদী সরকার। আদর্শ নির্বাচনী বিধি এড়িয়ে প্রথম কিস্তির টাকাও দিয়েছিল। হরিয়ানায় বিধানসভা ভোটের আগেও কৃষকদের মন রেখেই ইস্তাহার প্রকাশ করল বিজেপি। কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি বিনা সুদে কৃষিঋণ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে ইস্তাহারে।
‘আমার স্বপ্নের হরিয়ানা’ নামে নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করেন বিজেপির কার্যকরী সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা, সঙ্গে ছিলেন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর ও রাজ্য সভাপতি সুভাষ বারলা। কৃষকদের পাশাপাশি শিল্পশ্রমিকদেরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ইস্তাহারে। খট্টর বলেন, “রামরাজ্যের নীতি মাথায় রেখেই বিজেপির ইস্তাহার প্রকাশ করা হয়েছে। আমাদের আগের ইস্তাহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোসহীন লড়াই ও স্বচ্ছ প্রশাসনের কথা বলেছিলাম। আমাদের প্রথম সেই সঙ্কল্প আমরা পূরণ করতে পেরেছি।”
একাধিক রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে কৃষিঋণ মকুবের কথা ঘোষণা করেছিল কংগ্রেস। বিজেপি সে পথে হাঁটেনি। হরিয়ানাতেও যে তারা কৃষিঋণ মকুবের পথে হাঁটবে না, স্পষ্ট ভাবেই সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন খট্টর। যদিও তিনি বলেছেন কৃষকদের অনেক সুযোগসুবিধা দেওয়া হবে, বেশি দামও যাতে পান সে দিকেও সরকার নজর দেবে। বিজেপির ইস্তাহারে ২০২২ সালের মধ্যেই কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার কথা বলা হয়েছে। কৃষিঋণ মকুব না করলেও প্রাকৃতিক কারণে ফসলের ক্ষতি হলে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলেছেন খট্টর।
দেশের বেশিরভাগ কৃষকই ঋণের ব্যাপারে মহাজনের উপরে ভরসা করেন। প্রকৃতপক্ষে যাঁরা জমি চাষ। করেন তাঁদের বড় অংশ কৃষিশ্রমিক। তাই কৃষিঋণ মকুব করলে বড় চাষিদের লাভ হলেও ছোট চাষিদের কোনও সুবিধা হয় না। তাই লোকসভা নির্বাচনের সময় কৃষিঋণ মকুবের কথা ঘোষণা করেনি বিজেপি। মধ্যপ্রদেশে ভোটের আগে কৃষিঋণ মকুবের কথা ঘোষণা করেও ফল পায়নি কংগ্রেস। সে রাজ্যে টানা তিনবারের বিজেপি সরকার ক্ষমতায় না ফিরলেও তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। আর ক্ষমতায় এসে কংগ্রেস যে সব শর্ত দিয়েছে তাতে সরকারকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। তাই কৃষিঋণ মকুবের পথে হাঁটছে না বিজেপি।
https://www.four.suk.1wp.in/pujomagazine2019/%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%aa%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a7%83%e0%a6%a5%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a6%be/