দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিহারের পাশাপাশি মঙ্গলবার সারা দেশে ৫৬ টি বিধানসভা ও একটি লোকসভা আসনে উপনির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হবে। তার মধ্যে উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের আসনগুলির দিকে লক্ষ রাখছেন পর্যবেক্ষকরা। যতগুলি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হয়েছে, তার অর্ধেকই মধ্যপ্রদেশে। গত মার্চে মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া অনুগামীদের নিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন। এর ফলে অনেকগুলি বিধানসভা আসন শূন্য হয়। ওই রাজ্যে উপনির্বাচনে পরীক্ষা হবে, দলবদলের পরে জ্যোতিরাদিত্য তাঁর জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পেরেছেন কিনা। এদিন বেলা অবধি যা ট্রেন্ড, তাতে দেখা যায়, মধ্যপ্রদেশে এগিয়ে আছে বিজেপি।
কর্নাটকের টুমকুর জেলার সিরা কেন্দ্রে ও বেঙ্গালুরুর রাজরাজেশ্বরী নগর কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়েছিল। দু'টি কেন্দ্রেই এগিয়ে আছে বিজেপি।
গত ৩ নভেম্বর উত্তরপ্রদেশে সাতটি আসনে উপনির্বাচন হয়েছিল। গত ডিসেম্বরে উন্নাও ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন বিজেপির বিধায়ক কুলদীপ সেনগার। তাঁর আসনটি শূন্য হয়। এবার সেই আসনের দিকে নজর রয়েছে সকলের। ৩ নভেম্বর অপর যে রাজ্যগুলিতে উপনির্বাচন হয়েছিল, তার মধ্যে আছে কর্নাটক, গুজরাত, ওড়িশা এবং তেলঙ্গানা। ৭ নভেম্বর মণিপুরের কয়েকটি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হয়। ওইদিনই বিহারের একটি লোকসভা আসনেও উপনির্বাচন হয়। প্রতিটি আসনেই কঠোর কোভিড বিধি মেনে ভোট হয়েছিল।
বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলাফল হাতে নিয়ে ভোট পণ্ডিতদের অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন বিহারে ভারডুবি হতে চলেছে বিজেপি-নীতীশ কুমারের। বিপুল ব্যবধান নিয়ে সরকার গঠনের পথে আরজেডি, কংগ্রেস, বামেদের মহাগাটবন্ধন তথা মহাজোট। কিন্তু বেলা সাড়ে দশটা গড়াতেই দেখা যায়, সেই সব ব্যাখ্যা হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত (সকাল ১১টা) যা ট্রেন্ড তাতে বিহারে লড়াই হচ্ছে সমানে সমানে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। সরকার যে কোনও পক্ষেরই হতে পারে।
তবে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার ঝড় গেছে নীতীশের উপর দিয়ে। আর সেই ঝড়ের সুফল পেয়েছে বিরোধী জোট তথা আরজেডি ও কংগ্রেস। রাজ্যে বৃহত্তম দল হিসাবে উঠে আসতে পারে তেজস্বী যাদবের আরজেডি।
লালু প্রসাদ যখন জেলে বন্দী, তখন নিজস্ব ক্যারিশ্মায় আরজেডিকে এই স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্ব তেজস্বীরই। লালুর এই ছেলের বয়স মাত্র ৩১ বছর। গতকাল সোমবারই ৩১ পূর্ণ করে ৩২ এ পা রেখেছেন। কিন্তু বিহার স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে, নীতীশ-লালু ঘরানার পর বিহারে নতুন এক নেতার উত্থান হচ্ছে। তিনি তেজস্বী। তাঁর ডান, বাম দিকে তেমন প্যান-বিহার মুখ তেমন নেই। বিহার থেকে কেন্দ্রে বিজেপির একগুচ্ছ মন্ত্রী রয়েছেন ঠিকই। কিন্তু তাঁরাও কেউ তেজস্বীর সমতুল নয়।