দ্য ওয়াল ব্যুরো: দলের উপরে কি কোনও খারাপ গ্রহের দৃষ্টি পড়ল? নাকি একেই বলে শনির দশা? এমনটাই ভাবছেন বিজেপির বহু সদস্য-সমর্থক।
বুধবার সন্ধেতেই খবর এসেছে, সোয়াইন ফ্লু-তে আক্রান্ত হয়ে দিল্লির এইমসে ভর্তি হয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ্। তার ঠিক আগেই খবর মিলেছে, ক্যানসার ধরা পড়েছে অরুণ জেটলির, চিকিৎসা করাতে নিউ ইয়র্ক গিয়েছেন তিনি। অন্য দিকে, মন্ত্রিসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তথা কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ গুরুতর অসুস্থ হয়ে দিল্লি এইমস হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
তথ্য বলছে, অমিত শাহ-র রাজ্য গুজরাত সোয়াইন ফ্লু-তে দেশের মধ্যে তিন নম্বরে রয়েছে। গত বছরেই সে রাজ্য থেকে ১৬৪৬ জনের সোয়াইন ফ্লু ধরা পড়ার খবর আসে। মারা যান ৫১ জন। সোয়াইন ফ্লু আক্রান্তের তালিকায় মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানের পরেই গুজরাতের নাম থাকা নিয়ে বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতেই সোয়াইন ফ্লু-এর থাবা সব চেয়ে বেশি।
এ দিকে জেটলির থাইয়ে সফ্ট টিস্যু ক্যানসার ধরা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে, যা এক প্রকার টিউমারের মতো। এবং যা দ্রুত সারা শরীরে ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আদৌ জেটলির শরীরে এখনই অস্ত্রোপচার করা হবে নাকি কেমোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা হবে, সে ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি। কারণ, চিকিৎসকদের অনেকের মতে, সবে কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে। তার পর আরও একটি অস্ত্রোপচারের ধাক্কা শরীর নিতে পারবে কিনা সেটা দেখতে হবে। কিডনির উপর কেমোথেরাপির কতটা চাপ পড়তে পারে তা-ও দেখা দরকার।
তবে যদি অস্ত্রোপচার হয় তাহলে বাজেটের আগে দেশে ফেরা একপ্রকার মুশকিল বলেই মনে করা হচ্ছে। বস্তুত রাজনৈতিক নেতারা কেউই প্রায় অসুস্থতার কথা প্রকাশ্যে আনতে চান না। জেটলিও ব্যতিক্রম নন। সরকারি ভাবে ব্যক্তিগত কাজের জন্য বিদেশ গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
রবিশঙ্কর প্রসাদের অবস্থা প্রাথমিক ভাবে এতটাই সঙ্কটজনক ছিল, যে তাঁকে আইসিইউ-তে ভর্তি করাতে হয়। পালমোনারি মেডিসিন বিভাগে তাঁর চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের একটি বোর্ড তাঁকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখছেন।
এই অবস্থায়, ভোটের মুখে দলের এতগুলি হেভিওয়েট নেতা হাসপাতালে বন্দি হয়ে পড়ায় কপালে ভাঁজ পড়েছে বিজেপি নেতৃত্বের। তবে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা সময়ই বলতে পারবে।