দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত শনিবার এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, আমি বায়ুসেনাকে বলেছিলাম, মেঘের আড়াল থেকে বালাকোটে বোমাবর্ষণ কর। তাহলে পাকিস্তানের রেডারগুলি আমাদের বিমানের হদিশ পাবে না। মোদীর এই মন্তব্যের সমালোচনা হয় নানা মহলে। সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, সামরিক অভিযানের গোপন তথ্য ফাঁস করে মোদী অন্যায় করেছেন। সোমবার মোদীর বক্তব্যের পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেন বিজেপি নেতা বিনয় সহস্রবুদ্ধে। তিনি বলেন, এই ধরনের সেনা অভিযানের কৃতিত্ব পান রাজনীতিকরাই। মোদী বালাকোটে বায়ুসেনার অভিযান সম্পর্কে যা বলেছেন, তাতে অন্যায় কিছু হয়নি।
তাঁর কথায়, মোদীর মন্তব্য নিয়ে অত হইচই করার কী আছে? প্রধানমন্ত্রীকে একটা প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি বিস্তারিত জানিয়েছেন, কী হয়েছিল। আমার মনে হয় না তাতে আপত্তিকর কিছু আছে।
মোদী সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, কীভাবে বালাকোটে বিমান অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তাঁর কথায়, সেদিন আচমকাই আবহাওয়া খারাপ হয়ে গেল। আকাশে মেঘ জমল। অঝোরে বৃষ্টি পড়তে লাগল। অনেকেই ভাবছিল, এইসময় কি যুদ্ধবিমানগুলি অভিযান চালাতে পারবে? সব দিক খতিয়ে দেখে বিশেষজ্ঞরা অনেকেই বললেন, আজ অভিযান বাতিল করা হোক।
এরপর মোদী জানান, তিনি কীভাবে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, তখন আমার মনে দু’রকম চিন্তা উদয় হল। প্রথমে আমি ভাবলাম, বায়ুসেনার অভিযানের গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত আমি ভাবছিলাম, আমার তো প্রযুক্তির কিছু জানা নেই। এ ব্যাপারে মতামত দেওয়া কি ঠিক হবে? শেষ অবধি আমি বললাম, এই মেঘলা আবহাওয়ায় কিছু সুবিধা হতে পারে। আমাদের বিমানগুলি হয়তো রেডারের নজর এড়িয়ে যাবে। সকলেই বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিল। শেষপর্যন্ত আমি বললাম, চলো এগিয়ে যাই। ‘চল পড়ে’।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে ভারতীয় বায়ুসেনার জেট বিমানগুলি পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ঢুকে বালাকোটে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ শিবিরে বোমা ফেলে আসে। ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় জঙ্গি হানায় ৪০ জনের বেশি সিআরপিএফের জওয়ান নিহত হন। এই হামলার জবাব দেওয়ার জন্যই বালাকোটে অভিযান চালানো হয়েছিল।
মেঘের মধ্যে দিয়ে হামলা চালানোর জন্যই ভারতের বায়ুসেনা ছ’টি ক্রিস্টাল মেজ মিসাইল ছুঁড়তে পারেনি। ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ছুঁড়লে ধ্বংস হওয়া জঙ্গি শিবিরের ছবি পাওয়া যেত। বিরোধীরা প্রশ্ন তোলেন, বিশেষজ্ঞদের কথা না শুনে মোদী একার সিদ্ধান্তে অভিযান চালাতে বলেছিলেন কেন?
বিনয় সহস্রবুদ্ধে বলেন, সেনাবাহিনীকে বীরত্বের জন্য স্যালুট করা উচিত। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে দিল্লি থেকে। অভিযানের কৃতিত্ব পাবেন রাজনীতিক নেতারাই। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই অভিযান হয়।