
শেষ আপডেট: 7 November 2023 16:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: এখনও তিনি বিজেপির জাতীয় সম্পাদকের পদে রয়েছেন। তা সত্ত্বেও শান্তিনিকেতন তৃণমূলের ধর্না মঞ্চের কাছেই দেখা গেল সেই বিজেপি নেতা অনুপম হাজরাকে। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ''উপাচার্যর মেয়াদ শেষ হলে শান্তিনিকেতন গোবরজল দিয়ে শুদ্ধিকরণ করব।''
কয়েকদিন ধরে দলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল বিজেপির এই নেতাকে। শান্তিনিকেতনের ফলক বিতর্ক নিয়ে তিনিও সরব হয়েছিলেন। কিন্তু এবার তিনি পৌঁছে গেলেন তৃণমূলের ধর্না মঞ্চের খুব কাছে। প্রথমে তিনি দলীয় কর্মীদের সঙ্গে অস্থায়ী মঞ্চের সামনে যে রবীন্দ্রনাথের মূর্তি রয়েছে সেখানে গিয়ে ফুল দেন।
অনুপম বলেন, ''যেদিন উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হবে, বোলপুর-শান্তিনিকেতন গোবরজল দিয়ে শুদ্ধিকরণ করব। প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করতে ফলক বসিয়েছেন৷ উনি ভণ্ড বিজেপি সাজেন৷ বিজেপির পক্ষে ক্ষতিকর। রবীন্দ্রনাথ সবার। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে রাজনীতি বন্ধ হোক।"
১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনকে ''ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ'' তকমা দিয়েছে ইউনেস্কো। সেই সংক্রান্ত ফলকে আচার্য হিসাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর নাম থাকলেও ব্রাত্য স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ১২ দিন ধরে চলছে তৃণমূলের ধর্না বিক্ষোভ।
এদিন, মুখ্যমন্ত্রীকে ৫ পৃষ্ঠার ব্যঙ্গাত্মক চিঠি দিয়েছেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য। সেই প্রসঙ্গে অনুপম হাজরা বলেন, "এই উপাচার্য বিশ্বভারতীর পক্ষে ক্ষতিকারক। উনি নিজে বহিরাগত। শান্তিনিকেতন সম্পর্কে ওনার কোন ধারণা নেই৷ উনি পৌষমেলা, বসন্তোৎসব বন্ধ করে দিয়েছেন৷ ওনার মেয়াদ বাড়বে না নিশ্চিত থাকুন।"
বিষয়টি নিয়ে পাল্টা কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল নেতা জামসেদ আলি খান। তিনি বলেন, "এতদিন বিজেপির দেখা ছিল না৷ যেই উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে, শান্তিনিকেতনের পবিত্র মাটি থেকে উপাচার্য চলে যাবেন তখন বিজেপি এসে নাটক করছে।"