
শেষ আপডেট: 7 July 2022 12:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালীর অবমাননা (Kali Controversy) করে হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত করেছেন অভিযোগ করে দেশের নানা প্রান্তে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের (Mahua Moitra) বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে চলেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপি (BJP) ও তাদের বিভিন্ন শাখা সংগঠন ইতিমধ্যেই বহু থানায় মামলা দায়ের করেছে। গতকাল মহুয়ার বিরুদ্ধে মুখ খোলেন মধ্যপ্রদেশের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। ভোপালে মহুয়ার বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করেছে বিজেপি। আজ একটু আগে রাজধানীর পার্লামেন্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে দিল্লি বিজেপি।
বাংলায় গতকালই বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করে বঙ্গ বিজেপির মহিলা শাখা। আজ বেশ কয়েকজন বিধায়ক নিজের নিজের বিধানসভা কেন্দ্র এলাকার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তৃণমূলের কৃষ্ণনগরের সাংসদের বিরুদ্ধে। মহুয়া তৃণমূল নেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে কোনও কোনও এফআইআরে।
তৃণমূল কংগ্রেস গত পরশু রাতেই জানিয়ে দেয়, কালী নিয়ে মহুয়ার বক্তব্যের সঙ্গে দল সহমত নয়। কালী মন্তব্য কৃষ্ণনগরের সাংসদের নিজস্ব অভিমত। দলের বক্তব্যের পরও মহুয়া নিজের মন্তব্যে অনড়।
বিজেপি সূত্রের খবর, মহুয়ার বিরুদ্ধে দফায় দেশের সব প্রান্তে মামলা দায়ের করা হবে। এই ইস্যুতে তৃণমূল সাংসদকে আইনি ফাঁদে ফেলে বিজেপি আসলে গোটা দেশকে বার্তা দিতে চাইছে, হিন্দু-দেবদেবীকে নিয়ে ভাবাবেগে আঘাত দেওয়া মন্তব্যের পরিণতি কী হতে পারে।
এক মাস আগে প্রায় একই ধরনের ঘটনার সাক্ষী থেকেছে দেশ। ইসলামের নবীর বিরুদ্ধে টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানেই আপত্তিজনক মন্তব্য করেছিলেন বিজেপির তৎকালীন জাতীয় মুখপাত্র নূপুর শর্মা (Nupur Sharma)। বিজেপি তাঁকে সাসপেন্ড করলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত তাঁর নাগাল পায়নি। বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরাও নূপুরের বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন। নূপুরের বিরুদ্ধেও একাধিক থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। তবে মহুয়ার বিরুদ্ধে যেভাবে একটি সর্বভারতীয় দল কোমর বেঁধে নেমেছে, নূপুরের ক্ষেত্রে তা হয়নি। মহুয়া অবশ্য মনে করেন, তাঁকে আর নূপুরকে ঠিক এক বন্ধনীতে রাখা যায় না। তিনি তাঁর মতো করে মা কালীকে উদযাপন করেছেন। অন্যদিকে, নূপুর শর্মা অন্য ধর্মের ধর্মগুরুর অবমাননা করেছেন। এই দুটো এক নয়।
আরও পড়ুন: ‘বিজেপি ওৎ পেতে আছে’, মহুয়াকে সতর্ক করলেন অধীর
মহুয়াকে নিয়ে বিতর্কের কারণ, তিনি পরিচালক লীনা মণিমেকলাইয়ের পক্ষ নিয়ে বলেছেন, কালী হলেন মদ-মাংস খান এমন দেবী। কালীকে হিন্দু ধর্মে ইচ্ছেমতো কল্পনা করার অধিকার রয়েছে। একটি টিভি চ্যালেনের অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, আমার কাছে কালী হলেন মাংসভোজী, অ্যালকোহল খান এমন দেবী। ঈশ্বরকে নিয়ে এক-একজন এক-একরকম মত পোষণ করেন। সিকিম বা ভূটানে পুজোয় দেবতাকে হুইস্কি দেওয়া হয়। আমাদের এখানে কালীকে আমরা এমন করেই কল্পনা করি।
লীনা মণিমেকলাইয়ের তথ্যচিত্র ‘কালী’ নিয়ে সম্প্রতি বিতর্কের ঝড় উঠেছে চারদিকে। ওই ছবির পোস্টারে দেখা যাচ্ছে মা কালীর বেশে একজন দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁর মুখে সিগারেট। তিনি ধূমপান করছেন। মা কালীর এমন রূপ হিন্দু ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত করেছে বলে মত অনেকের।
মহুয়ার বক্তব্য, কালী নিয়ে তিনি যে কথা বলেছেন তার মধ্যে কোনও অসত্য নেই। যারা মনে করছেন আমি কালীর অবমাননা করেছি, তাঁরা চাইলে আদালতে তথ্যপ্রমাণ সহ হলফনামা দিয়ে জানান যে কালীর পুজোয় মদ, মাংসের ব্যবহার নেই।
মহুয়ার এই বক্তব্যে আরও চটেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পলের বক্তব্য, মহুয়া মৈত্র একই কথা বলে চলেছেন। তৃণমূলের তরফে দাবি করা হচ্ছে, মহুয়ার মতের সঙ্গে দল একমত নয়। তৃণমূল তৃণমূলের মতো বলছে, সাংসদ নিজের বক্তব্যে অনড়। ক্ষমা চাওয়া দূরস্থান।
অগ্নিমিত্রার আরও বক্তব্য, মহুয়া জানেন, তৃণমূল সরকার হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত করলে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না। বরং হিন্দু ধর্মের সমালোচনা করলে দলে উন্নতি হয়। সাংসদ বলছেন, দল সাসপেন্ড পর্যন্ত করেনি। অতএব ধরে নেওয়া যেতেই পারে মমতা চাইছেন মহুয়া মৈত্র একথা বলে যান। যাতে বিশেষ মহলের কাছে বার্তা যায়। এটা তোষণ রাজনীতির কদর্য উদাহরণ।
বিজেপির আসানসোল দক্ষিণের এই বিধায়ক সকালে দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী মুখ খুলুন। নূপুর শর্মাকে গ্রেফতার করতে চেয়ে তৎপর পুলিশ। ওঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি করা হচ্ছে। আর মহুয়ার মন্তব্যের পরে বহু ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে আছে। ইতিমধ্যে অনেক অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
এদিন বেলার দিকে মুখ্যমন্ত্রী একটি অনুষ্ঠানে বলেন, অনেক সময় নেতিবাচক বিষয়ে অহেতুক বিতর্ক করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য উদ্ধৃত করে অগ্নিমিত্রা ফের টুইটে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ শানান। বলেন, হিন্দু ধর্মকে আঘাত করা অহেতুক বিতর্ক মনে হচ্ছে। আপনার মানসিকতা আমরা জানি। তাই এ রাজ্যে তৃণমূল নেতারা হিন্দু ধর্মকে আক্রমণ করে অনায়াসে। এটা কোনও ভুল নয়। এটা অন্যায়, এটা হিন্দুদের অপমান।