দ্য ওয়াল ব্যুরো : মহারাষ্ট্রে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বীর সাভারকরকে ভারতরত্ন দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করল বিজেপি। তিনি মহারাষ্ট্রেরই সন্তান ছিলেন। একইসঙ্গে ওই রাজ্যের অপর দুই সমাজ সংস্কারক জ্যোতিরাও ফুলে ও সাবিত্রী ফুলেকেও ভারতরত্ন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার। তাতেই তিনজনকে ভারতরত্ন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরেই শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে বলেন, সাভারকর যদি প্রধানমন্ত্রী হতেন, পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মই হত না। তিনি দাবি করেন, সাভারকরকে ভারতরত্ন দেওয়া উচিত। তাঁর কথায়, গান্ধী ও নেহরুর কৃতিত্বকে আমি অস্বীকার করছি না। কিন্তু আমাদের দেশে আরও অনেক সুসন্তান ছিলেন। সাভারকরকে অবিলম্বে ভারতরত্ন দেওয়া উচিত। তিনি ১৪ বছর জেলে কাটিয়েছিলেন। নেহরু যদি ১৪ মিনিট জেলে কাটাতে পারতেন, আমি তাঁকেও বীর বলতাম।
এর আগেও সাভারকরকে 'যথাযোগ্য সম্মান' দেওয়ার দাবি তুলেছে বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। ২০১৮ সালে অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভা নামে এক সংগঠন দাবি করে, টাকার নোটে মহাত্মা গান্ধীর ছবি সরিয়ে সাভারকরের ছবি দেওয়া হোক। হিন্দু মহাসভার প্রধান স্বামী চক্রপাণি সাভারকরকে ভারতরত্ন দেওয়ার দাবি তোলেন। ২০১৬ সালে একটি ইংরেজি সাপ্তাহিকে বিজেপির এমপি তরুণ বিজয় লেখেন, সাভারকর ছিলেন বিদ্রোহী। তিনি দেশের মুক্তির জন্য নতুন পথ খুঁজেছিলেন। তিনি গোঁড়া ব্রাহ্মণদের মতো জাতপাতের সমর্থক ছিলেন না। বামপন্থীদের মতো দাস মনোবৃত্তিও তাঁর ছিল না।
সাভারকরের দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করে তরুণ বিজয় লিখেছিলেন, আমাদের প্রতিবেশী ইসলামি প্রজাতন্ত্রগুলির যে পরিণতি হয়েছে, আমাদের যদি তা থেকে রক্ষা পেতে হয়, তাহলে সাভারকরের কথা মন দিয়ে শুনতে হবে। তিনি কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বলেননি। তিনি চাইতেন, হিন্দু সভ্যতার মূল্যবোধগুলি মেনে চলা হোক। যদি কাউকে ভারতরত্ন দিতেই হয়, সাভারকরের চেয়ে যোগ্যতর কেই বা হতে পারেন। তিনি জাতীয়তাবাদ ও হিন্দু পুনর্জাগরণের প্রতীক।