
শেষ আপডেট: 6 February 2024 17:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করে কলকাতায় ফিরে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘অ্যাকশন হবে।’ ঘটনাচক্রে তার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে গোটা রাজ্যে মোট ৬ জায়গায় অভিযানে নেমে পড়েছে ইডি। মূলত, একশ দিনের কাজে চুরির অভিযোগ নিয়ে এই তল্লাশি চলছে বলে খবর। ইডির সেই অভিযান চলাকালীন আবার রাজ্য বিধানসভায় ধুন্ধুমার ফেলে দিল বিজেপি। তাঁদের দাবি, ২ লক্ষ কোটি টাকা চুরি নিয়ে আলোচনা করতে দিতে হবে বিধানসভায়।
রাজনীতিতে ধারণাই সব। একদা ক্যাগ রিপোর্টকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রে মনমোহন সরকারের বিরুদ্ধে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। পরে যদিও সেই দুর্নীতি প্রমাণ করা যায়নি। সাম্প্রতিক ক্যাগ রিপোর্টকে অস্ত্র করে এবার বাংলাতেও অনেকটা সেই কায়দাতেই চুরির অভিযোগ তুলতে শুরু করেছেন শুভেন্দুরা।
ওই ক্যাগ রিপোর্ট নিয়ে ইতিমধ্যে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও কড়া ভাষায় চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু কৌশলগত ভাবেই বিষয়টি এবার বিধানসভায় এনে ফেলল বিজেপি।
কিছুদিন আগে স্টেট ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টে ক্যাগ ( কম্প্রট্রোলার অ্যান্ড অডিটরস জেনারেল- CAG) জানিয়েছে, ২০০২-০৩ আর্থিক বছর থেকে ২০২০-২১ আর্থিক বছর পর্যন্ত ২ লক্ষ ২৯ হাজার কোটি টাকা খরচের হিসাব তারা পায়নি। অর্থাৎ কেন্দ্র বিভিন্ন খাতে যে অর্থ বরাদ্দ করেছে, তার খরচের যথাযথ হিসাব রাজ্য সরকার এই স্বশাসিত রাষ্ট্রীয় অডিট সংস্থাকে দেয়নি। যে সময়ের কথা বলছে ক্যাগ, তার মধ্যে বাম জমানার বছর রয়েছে। তার পর ছিল ত়ৃণমূল সরকার।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, বাম জমানার খরচের হিসাব নিয়ে এখন কেন প্রশ্ন তুলছে ক্যাগ। দুই, তাঁর সরকার সমস্ত ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট দিয়েছে। নইলে বিভিন্ন প্রকল্প খাতে একের পর কিস্তির টাকা এল কী করে! ক্যাগের এই রিপোর্টের নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মত শাসক দলের।
কিন্তু বিজেপি এদিন স্থির করেই রেখেছিল যে বিধানসভায় বিষয়টি তোলা হবে। অধিবেশন শুরু হতেই বিধানসভায় এ নিয়ে তুলকালাম ফেলে দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ বিজেপি বিধায়করা। তাঁদের দাবি, এই বিষয়টি বিধানসভায় মুলতবি প্রস্তাব এনে আলোচনা করতে হবে। তাতে অনুমতি দেননি স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর স্লোগান তুলতে তুলতে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান বিজেপি বিধায়করা। বিধানসভার সিঁড়িতে বসে তাঁরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
এ ব্যাপারে শাসক দলের উপ মুখ্য সচেতক তাপস রায় বলেন, ওঁরা মিথ্যা প্রচার দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। এ হল বিজেপির টিপিকাল কৌশল। ক্যাগের এই রিপোর্টও পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।