দ্য ওয়াল ব্যুরো : ১৪ মাস পরে মুক্তি পেয়ে শুক্রবার প্রথম সাংবাদিক বৈঠক করেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। বিজেপির অভিযোগ, সেখানে তিনি 'দেশদ্রোহী মন্তব্য' করেছেন। সেই অভিযোগে তাঁকে ফের বন্দি করার দাবি জানানো হয়েছে লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার কাছে।
পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেত্রী মেহবুবা মুফতি বলেন, "আমাদের রাজ্যের নিজস্ব পতাকা ফিরে পেলে তবে আমরা কাশ্মীরে জাতীয় পতাকা তুলব। জম্মু-কাশ্মীরের নিজস্ব পতাকা এবং সংবিধান আছে বলেই আমরা এখানে জাতীয় পতাকা তুলি। "
এর পরেই জম্মু-কাশ্মীর বিজেপির সভাপতি রবীন্দর রায়না বলেন, "আমি লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার কাছে আবেদন জানাচ্ছি, তিনি যেন দেশদ্রোহিতার অভিযোগে মেহবুবা মুফতিকে বন্দি করার নির্দেশ দেন।" পরে তিনি বলেন, "আমাদের পতাকার জন্য আমরা শেষ বিন্দু পর্যন্ত রক্ত দিতে রাজি আছি। জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই সেখানে কেবল একটি পতাকাই উত্তোলন করা হবে। সেটা হল জাতীয় পতাকা।"
মেহবুবা মুফতির উদ্দেশে রবীন্দর রায়না বলেন, "আমি তাঁকে সতর্ক করে বলতে চাই, কাশ্মীরের মানুষকে উস্কানি দেবেন না। আমরা কাউকে শান্তির বাতাবরণ নষ্ট করতে দেব না।"
মেহবুবা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, তাঁরা সাংবিধানিক লড়াই চালিয়ে যাবেন। তাঁর কথায়, "একটা ডাকাত শক্তিশালী হতে পারে, কিন্তু তাকে কেড়ে নেওয়া জিনিসগুলি ফেরত দিতেই হয়।" কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, "তারা সংবিধানকে ধ্বংস করেছে। জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার কোনও অধিকার সংসদের নেই।"
মেহবুবা বলেন, যাঁরা মনে করছেন আমরা কাশ্মীর ছেড়ে পালিয়ে যাব, তাঁরা ভুল করছেন। সংবিধানের ৩৭০ ধারা ফিরে না আসা পর্যন্ত তিনি ভোটে দাঁড়াবেন না বলে জানিয়েছেন। পিডিপি প্রধানের মন্তব্যের সমালোচনা করেছে কংগ্রেসও। জম্মু-কাশ্মীর প্রদেশ কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র রবীন্দর শর্মা বলেন, মেহবুবা মুফতি যে বিবৃতি দিয়েছেন, তা কোনও সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কংগ্রেস মুখপাত্রের মতে, মেহবুবা মুফতির বক্তব্য উস্কানিমূলক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন। তা মানুষের ভাবাবেগকে আহত করবে।
কয়েক মাস আগে মেহবুবার মুক্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টে হেভিয়াস কর্পাস পিটিশন দাখিল করেছিলেন তাঁর কন্যা ইলইলতিজা মুফতি। ওই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে কেন্দ্রের কাছে জনতে চেয়েছিল, মেহবুবা মুফতির মুক্তির ডেড লাইন কী? জবাবে কেন্দ্রীয় সরকার বলেছিল, আর দু'সপ্তাহের মধ্যেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে মুক্তি দেওয়া হবে।
মুক্তি পাওয়ার পর টুইটারে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মেহবুবা। তাঁর মেয়ে বলেন, এটা মায়ের স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাস। ১৪ মাস ধরে একটা মানুষকে আটকে রাখা হয়েছিল। তিনি তাঁর মত প্রকাশ করতে পারছিলেন না। এক ভয়ানক অবস্থার মধ্যে ছিলেন তিনি।