অভিযোগ উড়িয়ে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ অবশ্য বলেন, মানুষ সবই দেখেছেন। সকাল থেকে পুলিশ কর্মীরা বারে বারে আক্রান্ত হয়েছেন। তবু আন্দোলনকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করে গেছেন। কুণালের আরও প্রশ্ন, "আন্দোলনের নামে গুন্ডামি করা হল। কোথায় পড়ুয়া? অধিকাংশই তো মাঝবয়সী। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে অশান্তি তৈরির এই প্রচেষ্টা বাংলার মানুষ বরদাস্ত করবে না।"
অন্যদিকে, নবান্ন অভিযানে পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান, কাঁদানে গ্যাস চালানোর তীব্র নিন্দা করল বিজেপি। দলের নেতা শেহজাদ পুনাওয়ালা মঙ্গলবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যাচারী শাসকের সঙ্গে তুলনা করলেন। তিনি বলেন, আজকে যত পুলিশকে আন্দোলন দমন করতে নামানো হয়েছে, তার সামান্যও যদি আর জি কর হাসপাতালে থাকত, তাহলে ১৪ অগস্ট রাতে সেখানে তছনছ করতে পারত না দুষ্কৃতীরা।
উল্লেখ্য, এদিন ছাত্র সমাজের আন্দোলন দমন করতে কলকাতা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে, জলকামান চালায়। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের খণ্ডযুদ্ধে গোটা কলকাতা ও হাওড়া শহরের একাংশ লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এর প্রতিবাদে পুনাওয়ালা বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর দিদি নেই। তিনি ইদি আমিনের (উগান্ডার অত্যাচারী সেনাশাসক) মতো আচরণ করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ধর্ষকদের রক্ষা করছে, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করছে। শুধু তাই নয় সত্যের কণ্ঠস্বরকে দমানোর চেষ্টা করছে। সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টেও ভর্ৎসিত হয়েছে এই সরকার।
পুনাওয়ালার কথায়, এত পুলিশ যদি হাসপাতালে থাকত তাহলে জুনিয়র ডাক্তারের উপর এই অবিচার ঘটত না। এই ঘটনার প্রথম দিন থেকে একে আত্মহত্যা বলে চালানো হচ্ছে। অনেক দেরিতে এফআইআর করা হয়েছে। সাত তাড়াতাড়ি অন্ত্যেষ্টি সেরে ফেলে হয়েছে। সংস্কার কাজ শুরু করে দেওয়া হয় ঘটনাস্থলের এবং সেখানে গুন্ডারা হামলা চালিয়ে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করেছে।
বিজেপি নেতা প্রশ্ন তোলেন, এ ব্যাপারে রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা এবং আপ নেতারা নীরব কেন? নির্যাতিতার বিচার চাই না আমরা? আসলে ইন্ডিয়া জোটের মুখই এটা। ওরা সংবিধানকে শ্রদ্ধা করে না। মতপ্রকাশের অধিকার কিংবা মেয়েদের সুরক্ষা নিয়ে পরোয়া করে না, বলেন পুনাওয়ালা।