
চোপড়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ বিজেপির
শেষ আপডেট: 1 July 2024 17:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোপড়ায় ‘ইনসাফ সভা’ ডেকে এক তরুণ-তরুণীকে সবার সামনে মাটিতে ফেলে কঞ্চি দিয়ে নৃশংস মারের অভিযোগ উঠেছে এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। সে ইতিমধ্যে গ্রেফতারও হয়েছে। তবে চোপড়ার ঘটনায় তৃণমূলকে বিঁধতে ছাড়ল না বিজেপি। সাংবাদিক বৈঠক করে তাঁরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবি করেছে। বিজেপি দাবি, বাংলায় আসলে তালিবানি শাসন চলছে।
যে তৃণমূল নেতা এই ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে তার নাম জেসিবি ওরফে তাজেমুল। এলাকার বিধায়ক হামিদুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সে। বিজেপির মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া এই ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে নিশানা করে বলেছেন, ''তোষণ করতে করতে সংবিধান এবং মানবিকতা দুটোই ভুলে গেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আমলে যে জঙ্গলরাজ চলছে তার আরও একটি উদাহরণ পাওয়া গেল। আদতে তালিবানি শাসন চলছে বাংলায়।'' গৌরবের খোঁচা, জঙ্গলরাজ কেমন হয় তা দেখার জন্য একবার সকলের পশ্চিমবঙ্গে আসা উচিত।
তরুণ-তরুণীকে মারধরের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই সন্দেশখালি প্রসঙ্গ টেনে এনেছে বিজেপি। তাঁরা বলছে, রাজ্য যারা মহিলাদের অপমান করে, নির্যাতন করে তাদেরকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার সুরক্ষা দেয়। সন্দেশখালির শাহজাহান তার প্রকৃত উদাহরণ। আর এখন চোপড়ায় আরও এক জেসিবির উদয় হয়েছে বলে আক্রমণ শানিয়েছে গেরুয়া শিবির। শুধু বিজেপি মুখপাত্রই নন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডাও বাংলার তৃণমূল সরকারকে তুলোধনা করেছেন চোপড়ার ঘটনায়। নাড্ডার কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা মহিলাদের জন্য একদমই সুরক্ষিত নয়। সন্দেশখালি, উত্তর দিনাজপুর পরপর একই ঘটনা সেটাই প্রমাণ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ওই তরুণ-তরুণী চোপড়ার লক্ষ্মীপুর গ্রামে দীঘলগাঁও এলাকায় বাসিন্দা। ভিডিওয় দেখা যাওয়া তরুণী একজন বিবাহিত গৃহবধূ। ভিডিওয় যে যুবককে মার খেতে দেখা যাচ্ছে, তার সঙ্গে মেয়েটির বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে শোনা যায়। অভিযোগ, এই নিয়ে গ্রামে জানাজানি হতেই ডাকা হয় এক সালিশি সভা। সে সভা ডাকার ভূমিকায় ছিল ‘জেসিবি’। এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভাইরাল হয়েছে। তাতে নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।