Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
বিহারে আজ থেকে বিজেপি শাসন, রাজনীতির যে‌ অঙ্কে পদ্মের মুখ্যমন্ত্রী আসলে নীতীশেরই প্রথম পছন্দঅশোক মিত্তলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইডি, ক'দিন আগেই রাজ্যসভায় রাঘব চাড্ডার পদ পেয়েছেন এই আপ সাংসদ West Bengal Election 2026: প্রথম দফায় ২,৪০৭ কোম্পানি বাহিনী! কোন জেলায় কত ফোর্স?IPL 2026: ভাগ্যিস আইপিএলে অবনমন নেই! নয়তো এতক্ষণে রেলিগেশন ঠেকানোর প্রস্তুতি নিত কেকেআর TCS Scandal: যৌন হেনস্থা, ধর্মান্তরে চাপ! নাসিকের টিসিএসকাণ্ডে মালয়েশিয়া-যোগে আরও ঘনাল রহস্যক্যান্ডিডেটস জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে গুকেশের মুখোমুখি সিন্দারভ, ড্র করেও খেতাবের লড়াইয়ে বৈশালীIPL 2026: চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে হেরে টেবিলের তলানিতে কেকেআর! গুরুতর বদলের ইঙ্গিত রাহানের নববর্ষের 'শুভনন্দন'-এও মুখ্যমন্ত্রীর SIR তোপ! বাংলায় পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীরইরানের সব পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে‌ দেওয়া হয়েছে, দাবি আমেরিকার, চিন্তা ইরানি ল্যান্ডমাইনও Poila Baisakh: দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট, নববর্ষে অগণিত ভক্তের ভিড়, পুজো দিতে লম্বা লাইন

জয়নগর ও ফরাক্কা: ধর্ষণ মামলায় আসামীদের ফাঁসি কাঠে পৌঁছে দিয়ে বেনজির রেকর্ড আইনজীবী বিভাসের

সাইবার ক্রাইমের উপর তিনি সাতটি বইও লিখেছেন। বিভিন্ন জায়গায় সেগুলি পড়ানোও হয়।

জয়নগর ও ফরাক্কা: ধর্ষণ মামলায় আসামীদের ফাঁসি কাঠে পৌঁছে দিয়ে বেনজির রেকর্ড আইনজীবী বিভাসের

আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়।

শেষ আপডেট: 14 December 2024 08:50

সুমন বটব্যাল

জয়নগর ধর্ষণ কাণ্ডে সাজা ঘোষণা হয়েছে ৬২ দিন আর ফরাক্কায় ৬১ দিনে। অতীতে কোনও ধর্ষণ মামলায় এত দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট জমা দেওয়া, আদালতে সওয়াল জবাব ও সাজা ঘোষণা হয়নি। রাজ্য পুলিশের এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতীম সরকার এও দাবি করেছেন, কী করে এত দ্রুত নিঁখুত তদন্ত শেষ হয়েছে তা নিয়ে ভিন রাজ্যের পুলিশের মধ্যেও আগ্রহ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তাঁরা ফোন করছেন। 

কিন্তু পুলিশের যেমন তদন্তে কৃতিত্ব রয়েছে, তেমনই সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়ের কৃতিত্বও কম নয়। জয়নগর ও ফরাক্কা দুই মামলাতেই বিশেষ আইনজীবী হিসাবে সরকারের তরফে সওয়াল করেছেন বিভাস। রাজ্য পুলিশের সঙ্গে তিনি দারুণ তালমিল করে চলছিলেন বলেই খবর। শুক্রবার এডিজি দক্ষিণবঙ্গও তা স্বীকার করে বলেছেন,"দুটি মামলাতেই সরকারি আইনজীবী ছিলেন বিভাস চট্টোপাধ্যায়। তদন্তের কাজে উনি পুলিশকে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছেন বলেই এত তাড়াতাড়ি আমরা মামলার নিষ্পত্তি করতে পারলাম।"

কে এই বিভাস চট্টোপাধ্যায়?

উত্তর কলকাতার কাঁকুরগাছি ফুলবাগান এলাকায় বেড়ে ওঠা। পরিবারের ছোট সন্তান। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ইন্সটিটিউশন থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছেন বিভাস। স্কুলে বরাবরই প্রথম হতেন। মাধ্যমিকে প্রথম কুড়ি জনের মধ্যে ছিলেন এই কৃতী ছাত্র। পরবর্তীকালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক হয়েছেন। এরপরে সাইবার ফরেনসিকের ওপর ১১টি আন্তর্জাতিক কোর্স করেছেন আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়। 

সাইবার ক্রাইমের উপর তিনি সাতটি বইও লিখেছেন। বিভিন্ন জায়গায় সেগুলি পড়ানোও হয়। আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস শুরু করেছিলেন ২০০২ সালে। ২০১২ সাল থেকে সরকারি আইনজীবী। শুরুতে মূলত ইলেকট্রনিক্স এভিডেন্স, সাইবার ক্রাইমের উপর কাজ করতেন। ২০১৮ সালে বিদেশে একটি সাইবার কনফারেন্সে ডাক পান। সেখানে তাঁর বক্তৃতা শোনার পর সেখানে একাধিক চাকরির অফারও পেয়েছিলেন বলে বিভাসের দাবি। 

বিভাসবাবুর কথায়, "চাইলে বিদেশে থেকে কোটি কোটি টাকা রোজগার করতে পারতাম। অনেক সুখে থাকতে পারতাম। কিন্তু আমি একটু পাগলাটে মানুষ। যেদিন থেকে আইনের ছাত্র হয়েছি, সেদিন থেকে একটাই লক্ষ্য দ্রুত মানুষের বিচারের ব্যবস্থা করা।  কারণ, আজও গরিব মানুষকে বিচার পেতে প্রচুর কষ্ট করতে হয়।"

খানিক থেমে যোগ করেন, "সরকারি আইনজীবী মানে চেয়ারে গিয়ে বসে পড়লাম। পুলিশ যা তদন্ত করে আনল তাই পড়ে এজলাসে সওয়াল করলাম, আমি এই চেনা গত ভাঙতে চেয়েছি। পুলিশের সাক্ষ্য প্রমাণের সঙ্গে প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটাতে চেয়েছি। সে কারণেই জয়নগর এবং ফরাক্কার মামলায় আমরা এত দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করতে পারলাম।"

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে এডিজি জানান, "গুগল ম্যাপের মাধ্যমে ঘটনার দিন সংশ্লিষ্ট সময়ে অভিযুক্ত দুজনের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন চিহ্নিত করে তাদের গতিবিধির ডিজিট্যাল প্লটিং করা হয়। এক্ষেত্রে সফটওয়ারের মাধ্যমে ড্রোনের সাহায্যও নেওয়া হয়েছিল। এই প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েই ঘটনাস্থলে অভিযুক্তদের উপস্থিতি আমরা আদালতে প্রমাণ করতে পেরেছি।"

বিভাসবাবু বলেন, "সরকারি আইনজীবী চাইলে কিন্তু অনেক কিছুই করতে পারেন। আমার মনে হয় পুলিশি তদন্তে উঠে আসা সাক্ষ্য প্রমাণের সঙ্গে প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটালে কোনও অপরাধীই আগামী দিনে ছাড়া পাবে না। অন্তত যে যে মামলায় এটা কাজে লাগিয়েছি, তাতে আমি সাফল্যও পেয়েছি।"

ফরাক্কা কাণ্ডে যেমন ড্রোনের মাধ্যমে অপরাধস্থলে অভিযুক্তদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছিল তেমনই এর আগে ব্লু ট্রুথের সাহায্যে টিটাগড়ের ডাকাতির কিনারা করেছেন এই দুঁদে সরকারি আইনজীবী। আইনজীবীর পরিবারে রয়েছে তাঁর মা, স্ত্রী এবং ছেলে। তবে তাঁদের সম্পর্কে বিশেষ কিছু বলতে রাজি নন তিনি। 

কেন? বিভাসবাবুর কথায়, "২০২১ সালে সেক্টর ফাইভের একটি কল সেন্টারের মামলার পর থেকেই আমার ওপর একাধিক হুমকি রয়েছে। সম্প্রতি চুঁচড়া মামলায় সাতজনের ফাঁসির আদেশের পর থেকে নতুন করে থ্রেট আসছে। সরকার আমার জন্য জোর করে নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়েন করেছে। তাই এখন চাইলেও আমার গতিবিধি অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত।"

দিনের শেষে আপনার সবচেয়ে স্বস্তির জিনিস কী? জবাব আসে, 'মানুষের ন্যায় বিচারের ব্যবস্থা করা!' বলছিলেন, "এই যে জয়নগর বা ফরাক্কা, নির্যাতিতার পরিবার বিচার পেল, আমার যে কী আনন্দ হচ্ছে ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। গত ২ মাস গড়ে ৪ ঘণ্টা করে ঘুমিয়েছি। তবে পরিশ্রম সার্থক, সাফল্য এসেছে, ওরা বিচার পেয়েছে। আর কী চাই!"


```