
রূপকথাও হার মানবে শক্তি পালের কাহিনীর কাছে!
শেষ আপডেট: 7 August 2024 21:50
সুমন বটব্যাল
রূপকথাও হার মানবে শিলিগুড়ির লেকটাউনের শক্তি পালের জীবন-কাহিনীর কাছে!
পেশায় ভারতীয় সেনার তরুণ এই কর্মীর নেশা আর্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ৩২ বছরের শক্তির এই নয়া উদ্যোগের পথ চলা শুরু করোনা অতিমারীর সময় থেকে। তারপর থেকে নিজের কর্মকাণ্ডে শিলিগুড়ির ভবঘুরে তো বটেই রক্তের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ানো রোগীর আত্মীয় কিংবা অর্থাভাবে থমকে যাওয়া পড়ুয়াদের অনেকের কাছেই তিনি সাক্ষাৎ ভগবান!
অসম রাইফেলসের এই সেনা কর্মী করোনার সময় দমদম এয়ারপোর্টের সিকিউরিটি বিভাগে বদলি হয়ে আসেন। ওই সময় শিলিগুড়ির বাড়িতে মা, স্ত্রী ও ছোট্ট মেয়ের সঙ্গে কিছুদিন ছিলেন তিনি। সে সময় এলাকার বহু আর্ত মানুষকে অভুক্ত থাকতে দেখে শক্তির অন্তরাত্মা কেঁদে উঠেছিল। তখনই মানুষের সেবায় নিজেকে নিযুক্ত করার ভাবনা।
শুরুর দিকে হাতে গোনা কয়েকজন মানুষকে বিনা পয়সায় রান্না করা খাবার তুলে দিতেন তিনি। পরে ইউনিক ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন। যে সংস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের ৪০ জন প্রতিষ্ঠিত মানুষ। তাঁদের সহযোগিতাতেই এরপর থেকে শিলিগুড়ির ভবঘুরেদের বিনা পয়সায় দু'বেলা খাবারের ব্যবস্থা করেছেন এই সেনা কর্মী। বর্তমানে এলাকায় কোনও বাড়িতে খাওয়ার অনুষ্ঠান থাকলে সবার আগে খবর যায় শক্তিবাবুর ফাউন্ডেশনের কাছে। অনুষ্ঠান বাড়ির খাবার আর নষ্ট হয় না। এক ফোনেই পৌঁছে যান সংস্থার কর্মকর্তারা। উদ্বৃত্ত খাবার সংগ্রহ করে শহরের দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিলি করে দেন তাঁরা।
অর্থাভাবে থমকে যাওয়া পড়ুয়াদের জন্য কাওখালিতে বিদ্যাছায়া খুলেছেন তিনি। সেখানে প্রতিদিন পড়াশোনা করে কিছু দরিদ্রপরিবারের সন্তান। আগামী দিনে অসহায় মানুষের জন্য মাথা গোঁজার ছাদেরও ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে তাঁর সেই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে স্থানীয় এক ব্যক্তি দান করেছেন ১০ কাঠা জমিও।
করোনার সময় থেকে ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্ত জোগানের কাজও করে থাকে শক্তির সংস্থা। একই সঙ্গে শিলিগুড়িতে প্রতিদিন ১ টাকার বিনিময়ে দরিদ্র মানুষকে পেট পুরে বিরিয়ানিও খাওয়ানো হয়। এক টাকা নেওয়া কেন? শক্তি বলেন, "দরিদ্র হলেও অনেকে বিনা পয়সায় কিছু নিতে কুণ্ঠা বোধ করেন। তাঁদের কথা ভেবেই ১ টাকায় বিরিয়ানি বিক্রির ব্যবস্থা।"
সংস্থা সূত্রের খবর, এলাকার আর্ত মানুষের সেবায় নিজের বেতনের অর্ধেক টাকা ব্যয় করেন এই সেনা কর্মী। বিনিময়ে দুঃস্থ মানুষের মুখে ফোটে হাসি আর তাঁদের দুহাত উপুড় করা আর্শীবাদ পান শক্তি ও তাঁর দলবল। এলাকার গরিব মানুষের কথায়, "এমন পরোপকারীকে ভগবান ছাড়া আর কী বলে বা ডাকতে পারি!"