প্রশ্ন উঠছে আইসিকে কুকথা বলে আক্রমণ করার সঙ্গে সঙ্গে যেখানে একজন ছাত্র নেতাকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হল, সেখানে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে কেন এখনও কোনও পদক্ষেপ করল না দল।

সাসপেন্ড হওয়া বিক্রমজিৎ, সাসপেন্ড না হওয়া অনুব্রত
শেষ আপডেট: 1 June 2025 19:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনুব্রত মণ্ডলকে (Anubrata Mondal) 'ব্র্যান্ড' আখ্যা দিয়ে বোলপুরের আইসি লিটন হালদারকে (Liton Halder) কুকথার ফুলঝুরি। বিতর্কের মাঝে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড বীরভূমের জেলা টিএমসিপি সভাপতি বিক্রমজিৎ সাউ (Bikramjeet Shaw)। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাত্রনেতা পুলিশ অফিসারের উদ্দেশে বলেন, "এই আইসি দুর্নীতিগ্রস্ত। বোলপুর থানার আইসি প্রত্যেক বালি মাফিয়া, পাথর মাফিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে কাজ করে। এই লিটন হালদার অনুব্রত মণ্ডল নামক ব্র্য়ান্ডকে দমানোর চেষ্টা করছে।" এর পরই সেই ভিডিও ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়।
সম্প্রতি বোলপুর থানার আইসি (Bolpur PS IC) লিটন হালদারকে (Liton Halder) ফোনে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল দেওয়া এবং অশ্লীল কথাবার্তা বলার অভিযোগ ওঠে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে। সেই অডিও ভাইরাল হতেই রাজ্য-রাজনীতিতে হইচই শুরু হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে তাঁকে এই ঘটনায় ৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছিল। অনুব্রত অল্প সময়ের মধ্যে ক্ষমাও চেয়ে নেন। তবে পুলিশও তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে।

এখন প্রশ্ন উঠছে আইসিকে কুকথা বলে আক্রমণ করার সঙ্গে সঙ্গে যেখানে একজন ছাত্র নেতাকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হল, সেখানে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে কেন এখনও কোনও পদক্ষেপ করল না দল। পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন, প্রথমে অনুব্রতর গালিগালাজ তারপর ছাত্রনেতার কদর্য ভাষায় আইসিকে আক্রমণ, এমন ঘটনা রাজ্যে বাড়তেই থাকবে, যদি না কোনও পদক্ষেপ করা হয়। ছাত্রনেতার ক্ষেত্রে পদক্ষেপ হল ঠিকই, কিন্তু কেষ্টর বেলায় কেন নৈব নৈব চ?
অনেকেই বলাবলি করছেন, যতক্ষণ না অনুব্রতর বিরুদ্ধে দল বা পুলিশ কোনও কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে, সমাজবিরোধীদের সফট টার্গেট হয়ে দাঁড়াবে পুলিশ প্রশাসন। টার্গেট করার সাহস পেয়ে যাবে ছোট, বড় অনেক নেতারা।