
বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা।
শেষ আপডেট: 4 December 2024 14:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাতির সঙ্গে সেলফি তুলতে গিয়ে, ভিডিও করতে গিয়ে মারা গেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ির এক কিশোর। এই মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে বিধানসভায় রীতিমতো উষ্মা প্রকাশ করলেন বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা (Birbaha Hansda)। তিনি বলেন, 'এই নিয়ে তো সচেতন হতে হবে। মানুষকে তো বুঝতে হবে।' তাঁর মতে, মানুষ সাবধান না হলে এই বিপদ এড়ানো যাবে না। তাঁর কথায়, 'আমাদের যতই সিকিউরিটি থাকুক, এগুলো আটকানো সম্ভব নয়, যদি সাধারণ মানুষ বা পর্যটকরা সচেতন না হন।'
এদিন বিধানসভায় বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মনের প্রশ্নের উত্তরে বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা জানান, হাতির হানায় যারা আহত হন তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের অধীনে এবং রাজ্য সরকারি হাসপাতালে বিনা পয়সায় করা হয়। তবে হাতির হানায় চাষের ক্ষতিপূরণ হিসাবে বিঘা প্রতি যে টাকা (২০০/৩০০ টাকা) দেওয়া হয়, তা বাড়ানো যায় কিনা সেটা নিশ্চয়ই ভেবে দেখবে বন দফতর।
পাশাপাশি বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা উষ্মা প্রকাশ করে এটাও বলেন যে কয়েকদিন আগে পশ্চিম মেদিনীপুর এর কেশিয়াড়িতে এক কিশোর হাতির পালের সঙ্গে সেলফি তুলতে গিয়ে ও রিল বানানোর নেশায় প্রাণ হারিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে মানুষকে আরও বেশি সচেতন হওয়ার আর্জি জানান বনমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, দিন তিনেক আগেই হাতি দেখার অতিরিক্ত উৎসাহ আর কৌতূহলে কেশিয়াড়িতে এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। হাতিগেড়িয়ার জঙ্গল থেকে একদল দাঁতাল কেশিয়াড়ির লোকালয়ে ঢুকে পড়লে, ১৪ বছরের দেবপ্রিয় মাহাতো আরও অনেকের সঙ্গে ছুটে গেছিল হাতি দেখতে।
যদিও বন দফতরের তরফে বারবার মাইকিং করে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বহু মানুষই সেই সতর্কতা অমান্য করে জঙ্গলে প্রবেশ করে। মোবাইলে ছবি তোলা, ভিডিও রেকর্ড করা, এমনকি ফেসবুক লাইভ করতেও দেখা যায় অনেককে।
এমনই সময়ে একটি হাতি হঠাৎই জঙ্গলের ওই ভিড়কে লক্ষ্য করে তাড়া করে। হুড়মুড় করে ছুটে পালা সকলে। সেই সময়েই দেবপ্রিয় পড়ে যায় এবং হাতিটি তাকে পিষে দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। রাতে পুলিশ এবং বন দফতর যৌথভাবে দেহ উদ্ধার করে।
দেবপ্রিয়র বাবা বিশ্বজিৎ মাহাতো বলেন, ‘ছেলে হাতি দেখতে গিয়েছিল। শুনেছি হাতি পিষে দিয়েছে। তবে রাত পর্যন্ত দেহ দেখতে পাইনি।’
প্রসঙ্গত, দিন তিনেক আগের এই ঘটনা কেশিয়াড়িতে হাতির হানায় দ্বিতীয় মৃত্যু। এর আগে মার্চ মাসে কেশিয়াড়ি হাইস্কুলের শিক্ষক বাদলচন্দ্র দত্ত একইভাবে হাতির পায়ে পিষে মারা যান।
পরপর এই দুই ঘটনায় খড়্গপুরের ডিএফও মনীশকুমার যাদব বলেন, ‘অতি উৎসাহে মানুষ হাতির সামনে যাচ্ছেন। আমরা বারবার সতর্ক করেছি, কিন্তু কেউ শোনেননি। নিয়ম মেনে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’
তবে সরকারি সাবধানতা বা ক্ষতিপূরণের আশ্বাস কোনও সমাধান নয়। এই ধরনের বিপদ এড়াতে সাধারণ মানুষকেই সচেতন হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা।