দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফেব্রুয়ারি মাসে বালাকোটে বিমান অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসবাদীদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে ভারতীয় সীমান্তের বাইরে গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে জঙ্গি কার্যকলাপের প্রশিক্ষণ নিলেও তারা রেহাই পাবে না। ভারতীয় নৌ বাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মিলিত হয়ে এই মন্তব্য করেন সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত। তিনি আরও জানান সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রকের মধ্যে সংযোগসাধনের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ রুখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কাশ্মীরের অস্থিরতা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সেনাপ্রধান জানান, সরকারের বিভিন্ন সংস্থাগুলির মধ্যে পারস্পরিক যৌথ উদ্যোগে এবার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টোরেট যুক্ত হয়েছে যারা সন্ত্রাসবাদীদের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই দেশ সন্ত্রাসবাদের মুখোমুখি হয়েছে। ''সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। কাশ্মীর উপত্যকায় বিদ্রোহের উত্থান পতন আমরা আগেও দেখেছি। এর অন্যতম কারণ জঙ্গিরা আমাদের দেশের পশ্চিমের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কাছ থেকে সমর্থন পেয়ে আসছে এবং একইসঙ্গে সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা প্রচার করে সন্ত্রাসবাদীরা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।''
প্রধানমন্ত্রীর রাডার মন্তব্য নিয়ে বিপিন রাওয়াতকে জিজ্ঞাসা করা হলে সেনাপ্রান বলেন, বিভিন্ন প্রযুক্তির বিভিন্ন ধরনের রাডার আছে। কিছু রাডার মেঘের মধ্যে দিয়েই দেখতে পায় কিছু রাডার সেটা পারে না। কয়েকদিন আগেই একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছিলেন বালাকোট অভিযানের সঠিক সময় নির্ধারণ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের দ্বিধা তিনি কাটিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর সাধারণ বোধ দিয়ে। খারাপ আবহাওয়ার জন্য বিমান অভিযান পিছিয়ে দিতে আগ্রহী প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মোদী জানিয়েছিলেন, মেঘ থাকার জন্য ভারতীয় বিমানের অস্তিত্ব পাকিস্তানের রাডারে ধরা পড়বে না ফলে খারাপ আবহাওয়াতেই বালাকোটে বিমান হানা চালানোর সব থেকে প্রশস্ত সময়। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে রসিকতার প্লাবন বয়ে যায় এবং একই সঙ্গে তাঁর এই মন্তব্য দেশের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক বলেও অভিমত প্রকাশ করা হয় কোনও কোনও মহল থেকে।
কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনীর ভাইস অ্যাডমিরাল আর বি পণ্ডিত এবং বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স–এর ডিরেক্টর অনুরাগ কুমার। কুচকাওয়াজে ১৫ জন মহিলা ক্যাডেট পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশগ্রহণ করেন।