
শেষ আপডেট: 27 May 2023 14:19
অকাল বোধন শুনলেই দুর্গাপুজো আসতে আর কতদিন দেরি সেই দিন গোনা শুরু হয়ে যায় বাঙালির। তবে, আড়িয়াদহের (Bindhyabasini puja fair at Ariadaha) বাসিন্দারা এই বিষয়ে একটু বেশিই ভাগ্যবান। কারণ বছরে একবার নয় বরং দু'বার দুর্গাপুজোর মতোই ৫ দিন ধরে আনন্দ উপভোগ করেন তাঁরা। যদিও দুর্গাপুজো নয়, বিন্ধ্যবাসিনী পুজোতেই মেতে ওঠেন সকলে।


১৯০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আড়িয়াদহ (Ariadaha) অঞ্চলে প্রতি বছর জামাইষষ্ঠীর দিন থেকে শুরু হয় বিন্ধ্যবাসিনী পূজা। আর তা চলে টানা ৫ দিন। শুধু পুজোই নয়, এই বিন্ধ্যবাসিনী পুজোর প্রধান আকর্ষণ বিশাল মেলা। আর এই মেলায় ৫ দিনই ভীড় হয় অসংখ্য দর্শনার্থীর। মেলা কমিটির কর্মকর্তাদের মতে, এই মেলা দেখতে অনেক প্রবাসীও প্রতি বছর ফিরে আসেন আড়িয়াদহতে তাঁদের হোমটাউনে।



কথিত আছে, শ্রীকৃষ্ণের জন্মের সময়ে যশোদা যে দেবীর জন্ম দিয়েছিলেন, তাঁকেই বসুদেব পাল্টে দেন দেবকীর পুত্র শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে। এরপর এই দেবীই কংসকে বলেন 'তোমারে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে'। বিন্ধ্যাচলে অবস্থান করেন বলে এই দেবীর নাম বিন্ধ্যবাসিনী। সেই কারণেই দেবী বিন্ধ্যবাসিনীর বামদিকে থাকেন শিব এবং কংস, ডানদিকে থাকেন কৃষ্ণ এবং গরুড়।



কিন্তু বিন্ধ্যাচল থেকে আড়িয়াদহে কীভাবে হল এই পুজোর প্রচলন?
জানা গেছে, আড়িয়াদহ অঞ্চলের বহু পুরনো সিংহ পরিবারের কর্তা হরলাল সিংহ ভ্রমণে গিয়েছিলেন বিন্ধ্যাচল পর্বতে। সেখানেই তিনি দেখেন এই পুজো হতে। তারপরই বাড়ি ফিরে নিজের অঞ্চলে এই পুজো শুরু করেন তিনি। সেই থেকে প্রায় ২০০ বছর পেরিয়েও এই পুজো এবং মেলা আজও হইহই করে চলছে প্রতি বছর।