
ফিরহাদ হাকিম।
শেষ আপডেট: 25 February 2025 20:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর (tax) জমা দেওয়া নিয়ে কলকাতাবাসীর (kolkata residents) অনুযোগের অন্ত ছিল না। শহরবাসীর মতে, 'থাকি রাজ্যের রাজধানীতে, অথচ দু দু'জায়গায় কর দিতে হয়'!
মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভার বাজেট অধিবেশনের শেষ দিন জবাবি ভাষণে এ নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। জানিয়ে দিলেন, "এখন থেকে শহরবাসীকে আর দু'জায়গায় কর দিতে হবে না।" 'এক শহর এক নিয়ম', এই নীতিতে শহরবাসীকে এখন থেকে একটাই মাত্র ট্যাক্স দিতে হবে।
সাধারণত পুরসভা এলাকার বাসিন্দাদের শুধুমাত্র পুরসভাকেই কর দিতে হয়। পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে কর দিতে যেতে হয় বিএলআরও বা ভূমি সংস্কার দফতরে। কিন্তু কলকাতাবাসীর ক্ষেত্রে পুরসভার পাশাপাশি বিএলআরও দফতরেও কর দিতে হয়। দু'জায়গায় কর জমা দিতে গিয়ে হয়রানিরও শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ।
সারা রাজ্যের জন্য এক নিয়ম অথচ তাঁদের জন্য আলাদা নিয়ম কেন, এ নিয়েও শহরবাসীর তরফে অতীতে বারে বারে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। দেরিতে হলেও পুর কর্তৃপক্ষ সেই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হওয়ায় খুশি নাগরিকরা।
কী সেই সমাধান? পুরসভা সূত্রের খবর, বিএলআরও দফতরের খাজনা বা মিউটেশন সরাসরি বন্ধ করার ক্ষমতা পুরসভার নেই। এজন্য আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে। বিষয়টি জটিল। এদিকে শহরবাসীরও হেনস্থা কমানো জরুরি। তাই এ ব্যাপারে পুরসভার তরফে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের সচিবের সঙ্গে সম্প্রতি আলোচনা করা হয়।
পুরসভা সূত্রের খবর, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, জিএসটির মধ্যে যেমন এসজিএসটি এবং সিজিএসটি থাকে অনেকটা সেই আদলে কলকাতা পুরসভার কর ও বিএলআরও খাজনা এক সঙ্গে আদায় করা হবে। এরপর নিজেদের প্রাপ্য টাকা বুঝে নেব পুরসভা। এর ফলে শহরবাসীকে দু'জায়গায় কর জমা দিতে যেতে হবে না। হয়রানি যেমন কমবে তেমনই পুরসভা এবং বিএলআরও দফতরও নিজেদের প্রাপ্য ভাগ করে নেবে।
মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, ইতিমধ্যে কলকাতা পুরসভার তরফে রাজ্য সরকারের কাছে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। রাজ্য সরকারের সবুজ সংকেত মিললেই চালু হয়ে যাবে এই নতুন নিয়ম।