দ্য ওয়াল ব্যুরো : উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর-দিল্লি সীমান্তে কৃষকদের অবস্থান এখনও ওঠাতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যে জানা গেল, ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের নেতা নরেশ টিকায়েতের নেতৃত্বে উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগরে শুরু হয়েছে কৃষকদের মহাপঞ্চায়েত। সেখানে বিশাল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছে। গাজিপুর থেকে দেড়শ কিলোমিটার দূরে মুজফফরনগরে ওই জমায়েত দেখে উদ্বিগ্ন হয়েছে যোগী প্রশাসন।
ড্রোন থেকে তোলা ছবিতে দেখা যায়, মুজফফরনগরের কলেজ মাঠে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছেন। বৃহস্পতিবার শোনা যায়, এদিন রাতেই গাজিপুর থেকে অবস্থান তুলে দিতে পারে পুলিশ। তার পরেই বিকেইউ নেতা রাকেশ টিকায়েতের ভাই নরেশ মুজফফরনগরে মহাপঞ্চায়েতের ডাক দেন।
উত্তরপ্রদেশের শীর্ষস্থানীয় পুলিশকর্তা প্রশান্ত কুমার বলেন, গাজিপুর থেকে কৃষকদের হটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়নি। সেখানে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল ঠিকই কিন্তু ধরনাস্থল থেকে কৃষকদের হটিয়ে দেওয়া উদ্দেশ্য ছিল না। আন্দোলনে যাতে সমাজবিরোধীরা না ঢুকে পড়তে পারে, সেজন্যই বাড়তি ফোর্স পাঠানো হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার গাজিপুরের ধরনাস্থল থেকে কৃষকদের একাংশ ফিরে যাচ্ছিলেন। এরপর টিকায়েতের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। তাতে দেখা যায়, কৃষক নেতা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। তিনি বলছেন, বুলেটের মুখোমুখি দাঁড়াবেন। তখন উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানার নানা জায়গা থেকে কৃষকরা ফের গাজিপুরের দিকে যাত্রা শুরু করেন।
শুক্রবার সিংঘু ও টিকরিতে কৃষক জমায়েত থেকে গণ্ডগোলের খবর আসে। সিংঘুতে ২০০ জনের একটি দল, বেশির ভাগই স্থানীয় বাসিন্দা, তারা আচমকা পাথর ছুড়তে শুরু করে আন্দোলনস্থলে। ভাঙচুর করা হয় কৃষকদের তাঁবু। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা লড়তে থাকেন কৃষকরাও। কিছুক্ষণের মধ্যেই রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয়। সামাল দিতে নামে পুলিশ ও ব়্যাফ বাহিনী। কৃষকনেতারাও শান্তির জন্য আবেদন করতে থাকেন। কিন্তু অভিযোগ, মারমুখী জনতা পরোয়া করেনি কোনও কিছুকেই। কৃষকদের এলাকা ছেড়ে দিতে হবে এই দাবি করে ব্যাপক মারধর, ভাঙচুর চালায় তারা।
কিছু পরেই টিকরি সীমান্তেও আচমকা একদল লোক হানা দিয়ে কৃষকদের হুমকি দেয় জায়গা খালি করে দেওয়ার। তাদের বলতে শোনা যায়, জাতীয় পতাকার অবমাননা তারা মেনে নেবে না।
কৃষি আইনের বিরুদ্ধে দিল্লি সীমান্তে গত দু'মাসের বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ অবস্থান চালাচ্ছেন কৃষকরা। গত মঙ্গলবার প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন কৃষকদের ট্র্যাক্টর র্যালিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল রাজধানীর পরিস্থিতি। ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়ায় এলাকায়। ওইদিন বিক্ষোভকারীদের একাংশ লালকেল্লায় ঢুকে পড়ে। তাদের হাতে ছিল লাঠি ও পতাকা। 'নিশান সাহিব' নামে একটি ধর্মীয় পতাকা তাঁরা লালকেল্লায় উড়িয়ে দেন। লালকেল্লার ভিতরে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে তাড়া করে।