দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে এগোতে শুরু করেছেন সদ্যনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। আর আমেরিকার এই নয়া ডেমোক্র্যাটিক সরকারের একাধিক স্তরে বারবার ঘুরেফিরে আসছে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের জয়জয়কার। খোদ ভাইস প্রেসিডেন্টই ভারতীয় বংশোদ্ভুত কমলা হ্যারিস। সেই সঙ্গে ১২ সদস্যের কোভিড টাস্ক ফোর্সের শীর্ষে রয়েছেন প্রাক্তন মার্কিন জেনারেল সার্জন বিবেক মূর্তি। আমেরিকার কোভিড যুদ্ধকে নেতৃত্ব দেবেন তিনিই।
আমেরিকান ডাক্তার বিবেক মূর্তির জন্ম ব্রিটেনে হলেও তিনি আদতে কর্ণাটকের মানুষ। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকায় এইডস সচেতনতা প্রচারের কাজে যুক্ত। ২০১৪ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁকে আমেরিকার ১৯তম সার্জন জেনারেল নিযুক্ত করেছিলেন। সেই সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৩৭। সর্বকনিষ্ঠ হিসাবে এই পদ পেয়েছিলেন তিনি। তাঁর আগে কোনও ভারতীয়-আমেরিকান এই পদে বসার সুযোগ পাননি।
পরে অবশ্য ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রশাসন তাঁকে সরিয়ে দেয়। কিন্তু আমেরিকায় নানা ধরনের মাদকাসক্তি এবং এইডস অসুখের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে তাঁর একের পর এক রিপোর্ট বারূবারই তোলপাড় ফেলেছে সে দেশের স্বাস্থ্য মহলে। এবার আরও বড় দায়িত্ব নিয়ে ফিরে এলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ভোট প্রচারের গোড়া থেকেই করোনা মোকাবিলায় বিশেষ ভাবে জোর দেওয়ার কথা বলতে দেখা যায় বাইডেনকে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দায়িত্ব পেয়েই দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উঠেপড়ে লাগবেন। সেই কথা রেখেছেন তিনি। মহামারী রোধে সর্বপ্রথম তৈরি করে ফেলেছেন কোভিড প্রতিরোধী টাস্ক ফোর্স। সেখানেই ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিবেক মূর্তি দায়িত্ব পেয়েছেন সবটা সামাল দেওয়ার। তাঁর সহযোগী হিসেবে রয়েছেন আমেরিকার প্রাক্তন খাদ্য এবং ড্রাগ প্রশাসন কমিশনার ডেভিড কেসলার।
নতুন বছরের জানুয়ারি থেকেই কোভিড টাস্ক ফোর্স কাজ শুরু করবে বলে জানা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই আমেরিকায় প্রায় ২ লক্ষ ৭৫ হাজার মানুষ মারা গেছেন কোভিডে। অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে এত বড় বিপর্যয়। এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি জনজীবন। ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু হলেও তা এখনও নিশ্চিত ভাবে সাধারণ মানুষকে দেওয়াও শুরু হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার কোভিড পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দায়িত্ব নিঃসন্দেহে বড় চ্যালেঞ্জ ডক্টর বিবেক মূর্তির কাছে। তবে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দিয়ে সে কাজে সফল হবেন ৪৩ বছরের এই চিকিৎসক, এমনটাই আশা করছেন সকলে।