
শেষ আপডেট: 7 June 2022 16:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোটা এলাকাই হাই সিকিউরিটি জোনের অন্তর্গত। মাত্র চারশো মিটার দূরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি। বলা যায় ঢিল ছোঁড়া দূরত্ব। বিভিন্ন রাস্তায় পুলিশ মোতায়েন থাকে। অথচ সেখানেই বাড়ির মধ্যে খুন হয়ে গেলেন এক দম্পতি (Bhowanipur Murder)। প্রতিবেশীরা কেউ কিছু টের পেলেন না! পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খুন হয়েছে দুপুর ১২টা থেকে সন্ধে ছটার মধ্যে।
মিত্র ইনস্টিটিউশনের কাছেই ৭৩/এ-র তিনতলা বাড়ির একতলায় থাকতেন পৌঢ় অশোক ও রস্মিতা শাহ। চতুর্দিকেই সিসি ক্যামেরা (CCTV Camera)। কড়া নিরপাত্তার বেষ্টনী। কিন্তু খুনের পর নিহতদের বাড়ির মূল রাস্তার তিনটি সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশ দেখে, সেগুলি বিকল। ওই ক্যামেরা কতদিন ধরে বিকল রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ওই ফুটেজ পেলেই সব পরিষ্কার হয়ে যেত বলে জানা যাচ্ছে। পাশেই রয়েছে একটি হোটেল। সেখানেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
ওই বাড়ির পাশের বাড়িটি পেশায় চিকিৎসক সুভাষচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের। এদিন তাঁর বাড়ির আশেপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়েছে পুলিশ। সুভাষবাবু বলেছেন, 'ঘটনার কথা জানার পর থেকে আমরা খুবই চিন্তার মধ্যে রয়েছি। আমি ওই দম্পতিকে চিনতাম না। কালই টিভিতে জানতে পারি। তবে এলাকায় অস্বাভাবিক কিছু দেখিনি। এই এলাকায় সবসময়ই পুলিশ থাকে।'
সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার দিন চলবে অতিরিক্ত মেট্রো! কখন থেকে শুরু পরিষেবা? জানুন বিস্তারিত
জানা গেছে, নিহত অশোক শাহ আগে এলগিন রোডের একটি বাড়িতে থাকতেন। কিছু বছর আগে তিনি ভবানীপুরের (Bhowanipur Murder) এই বাড়ির একতলার অংশ কিনে বসবাস শুরু করেন। স্টক মার্কেটের শেয়ার সংক্রান্ত ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তাঁর তিন মেয়ে। ছোট মেয়ে অবিবাহিতা।
উল্টোদিকের একটি বাড়ির দীর্ঘদিনের ভাড়াটে পুতুল রায় বললেন, 'এখানে বেশিরভাগ লোকজনই নতুন। সব পুরনো বাড়ি ভেঙে ফ্ল্যাট হচ্ছে। নতুন নতুন লোকজন আসছেন। তবে ওই দম্পতিকে মাঝেমধ্যে দেখতাম সকালে পুরসভার গাড়িতে ময়লা ফেলতে আসতেন। আলাপ ছিল না। কোনওদিন কথা হয়নি। আমি খবরে আমাদের পাড়ার নাম দেখে চমকে যাই। খুব উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছি।'
ঘটনায় বাড়ি বিক্রি সংক্রান্ত কোনও বিষয় রয়েছে কী না জানতে, ওই বাড়ির পিছনের নির্মীয়মাণ বহুতলের এক ঠিকা শ্রমিককেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গেছে। খুনের পর থেকে ব্যবসায়ীর দুটি মোবাইল ফোন পাওয়া যাচ্ছে না। যারমধ্যে একটি ফোনে এদিন সকাল পর্যন্তও রিং হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
সবমিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের বাড়ির অনতিদূরে এই জোড়া খুনের ঘটনায় শহরের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।