ভবানীপুরে প্রচারের শেষলগ্নে তৃণমূলের অস্ত্র মমতার রোম সফরে কেন্দ্রের আপত্তি
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভবানীপুরে (Bhawanipur) বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রচারে এতদিন প্রাধান্য পেয়েছে জ্বালানির দামবৃদ্ধি, সাম্প্রদায়িক বিভাজন, উত্তর প্রদেশসহ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির আইন-শৃঙ্খলা ইত্যাদি। ঘূর্ণিঝড়ের মুখ ঘুরিয়ে আছড়ে পড়ার মতো
শেষ আপডেট: 30 October 2021 15:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভবানীপুরে (Bhawanipur) বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রচারে এতদিন প্রাধান্য পেয়েছে জ্বালানির দামবৃদ্ধি, সাম্প্রদায়িক বিভাজন, উত্তর প্রদেশসহ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির আইন-শৃঙ্খলা ইত্যাদি। ঘূর্ণিঝড়ের মুখ ঘুরিয়ে আছড়ে পড়ার মতো শনিবার দুপুরের পর তাতে নয়ামাত্রা যোগ করেছে রোম (Rome)। তৃণমূল সূত্রের খবর, ভবানীপুরে আগামী তিনদিনের প্রচারে তারা সবচেয়ে বেশি জোর দিতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রীর রোম সফরে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি।
আজ রবিবার থেকেই শুরু হচ্ছে তা নিয়ে জোরদার প্রচার। আগামী মঙ্গলবার বিকালে সেখানে প্রচার শেষ হবে। জোড়াফুল শিবির সিদ্ধান্ত করেছে এই তিনদিন রোম নিয়ে বিজেপিকে লাগাতার আক্রমণ শানানো হবে। শনিবার সন্ধ্যার প্রচারে স্বয়ং প্রার্থী তথা মুখ্যমমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। বলেন, ‘কো-ভ্যাক্সিন (covaccine) নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আমেরিকা যেতে পারেন। আমার ক্ষেত্রে তবে বাধা কেন? কো-ভ্যাক্সিন তো এখন হু-র অনুমোদন পেয়ে গিয়েছে। তাহলে যেতে দেওয়া হচ্ছে না কেন?’
ভবানীপুরে ভোটার লিস্টে প্রশান্ত কিশোর! দাবি বিজেপির, বহিরাগত ইস্যুতে তৃণমূলকে খোঁচা
ভবানীপুরে ভোটারদের প্রায় কুড়ি শতাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত। সেই অঙ্ক মাথায় রেখে বিজেপি সেখানে ধর্মীয় মেরুকরণের তাসই বেশি খেলছে। লক্ষ্যনীয়ভাবে তাদের যাবতীয় প্রচারে থাকছে কীর্তণের দল। হালে আর কোনও ভোটের প্রচারে কীর্তণ দলের এতটা প্রাধান্য দেখা যায়নি। সংখ্যালঘুরা চোখ-কান বুজে জোড়াফুলের বাটন টিপবে ধরে নিয়ে বিজেপির পরিকল্পনা ধর্মীয় সংখ্যাগুরুদের ভোট একজোট করা। সেই মতো প্রচারে আসা তারকা নেতা-মন্ত্রীদের মধ্যে কোনও সংখ্যালঘু মুখ এখনও পর্যন্ত নেই।
অন্যদিকে, তৃণমূল যেমন সংখ্যালঘু ভোটের ব্যাপারে নিশ্চিত, তেমনই সংখ্যাগুরুদের সমর্থন আদায়ে কোমর বেঁধে নেমেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরের মতো এবারও প্রচারে বেরিয়ে মন্দির-মসজিদ-গুরদোয়ারায় গিয়েছেন।
তবে রোম সফরে অনুমতি না দেওয়ার খবর জানার পর বিজেপিকে তিনি হিন্দুত্বের অস্ত্রেই পাল্টা আক্রমণ শানাতে শুরু করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রে যারা ক্ষমতায় বসে, তারা কথায় কথায় হিন্দুর স্বার্থরক্ষার কথা বলে। কিন্তু তারা যদি সত্যিই আন্তরিক হত তাহলে একজন হিন্দু নারীর সর্বধর্ম শান্তি সম্মেলনে যাওয়া কেন আটকে দেওয়া হল?
রোমের শান্তি সম্মলনে সব ধর্মের মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমি সেখানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতাম। কিন্ত হিন্দু মহিলা বলেই কি আমাকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না?
তৃণমূল একই কথা বলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিকাগো সফর বাতিলের প্রসঙ্গ টেনে এনে। তাদের বক্তব্য, শিকাগো সম্মেলনেও ষড়যন্ত্র করে মুখ্যমন্ত্রীকে যেতে দেওয়া হয়নি। বছর তিনেক আগে একেবারে শেষ মূহূর্তে মুখ্যমন্ত্রীর চিন সফরও আটকে দিয়েছিল কেন্দ্র। সেবার বিনিয়োগ আনতে শিল্প-মহলের প্রতিনিধিদের নিয়ে চিন সফরে যাওয়ার সব প্রস্তুতি শেষ হয়ে গিয়েছিল।
প্রচার সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো রোমে বেড়াতে যাচ্ছিলাম না। শান্তি সম্মেলন বলেই ইতালি সরকার আমাকে বিশেষ অনুমতি দিয়েছিল।’ তাঁর আরও সংযোজন আমার বিদেশ সফর করার বাসনা নেই। কিন্তু রোম সফর আটকে দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার দেশের সম্মান ভূলুণ্ঠিত করল।