
শেষ আপডেট: 15 December 2022 03:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'ভারত জোড়ো যাত্রা' (Bharat Joro Yatra) শততম দিন পার করতে চলেছে। প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আর আড়াই মাসের মাথায় অভিযাত্রীরা পৌঁছে যাবেন শ্রীনগরে। স্বাধীন ভারতে এমন অভিযানের নজির নেই। হয়তো সেই কারণে রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) কংগ্রেসের একাংশ মহাত্মা গান্ধীর (Mahatma Gandhi) সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করেছেন। তাঁরা বলছেন, জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী যেভাবে ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন দেশকে স্বাধীন করার জন্য, আজ স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর সেই একইভাবে দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় নিজে পথে নেমেছেন রাহুল গান্ধী। দেশকে অখণ্ড রাখার লক্ষ্যে তিনি নজিরবিহীন পদযাত্রায় পা মিলিয়েছেন।
কিন্তু রাহুল গান্ধী নিজে এই তুলনায় অত্যন্ত বিরক্ত, অসন্তুষ্ট। তিনি মনে করছেন এই ধরনের তুলনা অর্থহীন এবং এর ফলে 'ভারত জোড়ো যাত্রা'র প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
রাহুলের বক্তব্য, তিনি এই যাত্রা থেকে কোনও রাজনৈতিক লাভ চান না। তাঁর লক্ষ্য ভারতবর্ষকে অখণ্ড রাখা। সেই অখণ্ডতা হল ধর্মীয়, জাতিগত, ভাষাগত এবং অর্থনৈতিকভাবে সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে মৈত্রী, সম্প্রীতি এবং বোঝাপড়া গড়ে তোলা।
রাহুলের 'ভারত জোড়ো যাত্রা' এখন রয়েছে রাজস্থানে। রাজস্থান কংগ্রেস তাদের রাজ্যে এই যাত্রায় বিভিন্ন জায়গায় রাহুলের সঙ্গে গান্ধীর ছবি দিয়ে প্রচার শুরু করেছে। এছাড়া রাজস্থানের কংগ্রেসমন্ত্রী ও নেতারাও বলছেন যে রাহুল হলেন আজকের ভারতের মহাত্মা গান্ধী।
এই প্রসঙ্গেই বুধবার রাহুল দীর্ঘ বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বলেছেন, মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে কারও তুলনা চলে না। তিনি তাঁর গোটা জীবনটা ভারতের স্বাধীনতার জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। জওহরলাল নেহেরু, সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী প্রমুখের কথাও উল্লেখ করেছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি। বলেছেন ইন্দিরা, রাজীব দেশের জন্য প্রাণ ত্যাগ করেছেন। আজ কোনও পরিস্থিতিতেই কারও সঙ্গে এদের তুলনা টানা অনুচিত। রাহুলের বক্তব্য, এই নেতারা যেভাবে আত্মত্যাগ করেছেন তার নজির মেলা কঠিন। ফলে স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং জাতীয় নেতাদের সঙ্গে আজকের নেতাদের তুলনা অনুচিত।
কংগ্রেস সূত্রের খবর, রাহুলকে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করার পিছনে রয়েছে রাজস্থান কংগ্রেসের ঘরোয়া সমীকরণ। মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে অশোক গেহলত ও শচীন পাইলট গ্রুপ মনে করছে 'ভারত জোড়ো যাত্রা' শেষে একটা হেস্তনেস্ত করবেন এই কংগ্রেস নেতা। দু'পক্ষই তাই প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতিকে খুশি করতে উঠেপড়ে লেগেছে। রাহুলকে জড়িয়ে প্রচারে এগিয়ে শচীন। বস্তুত, রাজস্থানে সনিয়া পুত্রের ছায়াসঙ্গীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে থাকা এই নেতা।
কিন্তু সনিয়া পুত্র বুঝতে পারছেন, তাঁর সঙ্গে মহাত্মা গান্ধীর তুলনা বিরোধীদের হাতই শক্ত করবে। এখনও পর্যন্ত বিরোধীরা এই কর্মসূচি নিয়ে রাহুলকে আক্রমণের পথে হাঁটেনি। বরং, গুজরাতে বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের জেরে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, 'ভারত জোড়ো যাত্রা' থেকে বিরতি নিয়ে রাহুল ওই রাজ্যে ভোটের প্রচারে আরও সময় দিলে ভাল করতেন।
তাঁর সঙ্গে মহাত্মা গান্ধীর তুলনা নিয়ে শোরগোল শুরুর আগেই রাহুল দেশের অখণ্ডতা নিয়ে বিজেপি এবং আরএসএসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। বলেছেন ভারতের ঐক্য, সম্প্রীতি এদের অপরাজনীতির কারণে বিপন্ন হওয়ার মুখে।