ভারত বায়োটেকের টিকায় নতুন উপাদান, কার্যকারিতা বাড়বে, দ্বিগুণ হবে রোগ প্রতিরোধ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার টিকা কীভাবে দীর্ঘদিন কার্যকরী থাকবে, সে নিয়ে একের পর এক গবেষণা করে চলেছে দেশের প্রথম সারির ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা ভারত বায়োটেক। সোমবার সংস্থার তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, কোভ্যাক্সিন টিকায় এমন অ্যাডজুভ্যান্ট (ইমিউন বুস্ট
শেষ আপডেট: 4 October 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার টিকা কীভাবে দীর্ঘদিন কার্যকরী থাকবে, সে নিয়ে একের পর এক গবেষণা করে চলেছে দেশের প্রথম সারির ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা ভারত বায়োটেক। সোমবার সংস্থার তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, কোভ্যাক্সিন টিকায় এমন অ্যাডজুভ্যান্ট (ইমিউন বুস্টার) ব্যবহার করা হচ্ছে যা টিকার কার্যকারিতা কয়েকগুণে বাড়িয়ে দেবে। টিকার ডোজে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও বাড়বে।
ভারত বায়োটেকের চেয়ারম্যান কৃষ্ণা এল্লা জানিয়েছেন, নতুন উপাদান আনানো হচ্ছে বিদেশ থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ভাইরোভ্যাক্স এলএলসি-র সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এই মার্কিন ফার্মার লাইসেন্স পেয়েই তাদের তৈরি অ্যাডজুভ্যান্ট অ্যালহাইড্রক্সিকুইম-২ যোগ করা হবে করোনার টিকায়।
অ্যাডজুভ্যান্ট কী? কাজ করে কীভাবে?
সার্স-কভ-২ ভাইরাসের আরএনএ স্ট্রেন নিষ্ক্রিয় করে তৈরি হয়েছে কোভ্যাক্সিন। এটি ইনঅ্যাকটিভেটেড ভ্যাকসিন। কৃষ্ণা এল্লা বলেছেন, এই ভ্যাকসিনের সঙ্গে যদি ভাইরোভ্যাক্সের তৈরি অ্যাডজুভ্যান্ট যোগ করা যায়, তাহলে এর ক্ষমতা কয়েকগুণে বেড়ে যাবে। মানুষের শরীরে দীর্ঘদিন কার্যকরী থাকবে টিকার ডোজ। অ্যাডজুভ্যান্ট হল ফার্মাকোলজিক্যাল বা ইমিউনোলজিক্যাল উপাদান যা ভ্যাকসিনের ইমিউন রেসপন্স বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। অ্যাডজুভ্যান্ট ভাইরাল অ্যান্টিজেন বা প্রোটিনের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। বদলে রক্তের বি-কোষ ও টি-লিম্ফোসাইট কোষের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়। বি-কোষ সক্রিয় হলে রক্তে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। আর ঘাতক টি-কোষ জাগলে যে কোনও প্যাথোজেনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ শক্তি তৈরি হয়।
ভ্যাকসিনে সাধারণ অ্যাডজুভ্যান্ট হিসেবে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড ব্যবহার করা হয়। এই অ্যাডজুভ্যান্ট টিএইচ২ কোষের সক্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়। এই কোষ অ্যাকটিভ হলে যে কোনও ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা প্যাথোজেনের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করতে পারে। ভারত বায়োটেকের চেয়ারম্যান কৃষ্ণা এল্লা বলছেন, এই ধরনের অ্যাডজুভ্যান্ট যেমন ভাল, তেমনি এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। ভ্যাকসিনের কারণে শ্বাসজনিত রোগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পার। বদলে যদি ইমিডাজোকুইনোলিন গোত্রের অ্যাডজুভ্যান্ট ব্যবহার করা যায় তাহলে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কোনও সম্ভাবনাই থাকে না।
ভাইরোভ্যাক্সের আধিকারিক সুনীল ডেভিড বলেছেন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের তত্ত্বাবধানে কাজ করে ভাইরোভ্যাক্স। ভারত বায়োটেকের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়েছে। নতুন অ্যাডজুভ্যান্ট ভারত বায়োটেকের টিকা কোভ্যাক্সিনের কার্যকারীতা বাড়াবে বলেই আশা করা যায়।
দেশে কোভ্যাক্সিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হয়েছে। এই টিকা রেসাস প্রজাতির বাঁদরদের শরীরে বলিষ্ঠ রোগ প্রতিরোধ শক্তি তৈরি করেছেল বলে জানিয়েছিল ভারত বায়োটেক। বলা হয়েছিল, ই টিকার প্রভাবে অবিশ্বাস্য সাফল্য দেখা গেছে। প্রাণীদের শরীরেও টিকার প্রভাব বেশ ইতিবাচক। অ্যান্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। রক্তে অ্যান্টিবডির পরিমাণও বাড়ছে। টিকার ‘অ্যানিমাল ট্রায়াল’-এর এই সাফল্য সুরক্ষা ও কার্যকারীতায় নতুন মাত্রা আনবে বলেই মনে করা হচ্ছে।