দ্য ওয়াল ব্যুরো: কে আগে করোনার টিকা আনবে, সেরাম না ভরত বায়োটেক, সে নিয়ে জোর জল্পনা চলছে। একুশের জানুয়ারিতেই টিকা আনতে পারে সেরাম ইনস্টিটিউট, এমনটাই জানিয়েছেন সংস্থার সিইও আদর পুনাওয়ালা। অন্যদিকে, আজই ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) এক শীর্ষ বিজ্ঞানী দাবি করলেন, ভারত বায়োটেকের ভ্যাকসিন ট্রায়াল যে গতিতে চলছে তাতে একুশের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই টিকা নিয়ে আসার সম্ভাবনা প্রবল।
করোনার টিকা কোভ্যাক্সিন আসবে একুশ সালের জুন মাস নাগাদ, এমনটাই ঘোষণা করেছিল ভারত বায়োটেক। তবে আইসিএমআরের বিজ্ঞানী রজনী কান্ত বলেছেন, কোভ্যাক্সিন টিকার ক্লিনিকাল ট্রায়ালের রিপোর্ট বেশ ভাল। মানুষের শরীরে কার্যকরী হচ্ছে এই টিকা। তাই সব ঠিক থাকলে বছর শেষের আগেই টিকার সেফটি ট্রায়ালের রিপোর্ট চলে আসতে পারে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক ও ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটির ছাড়পত্র পেলে আগামী বছর ফেব্রুয়ারির মধ্যেই কোভ্যাক্সিন টিকা চলে আসতে পারে দেশের বাজারে।
কীভাবে এগিয়েছে কোভ্যাক্সিন টিকার ট্রায়াল?
গত ২ অক্টোবর টিকার চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়ালের জন্য ড্রাগ কন্ট্রোলের অনুমতি চেয়েছিল ভারত বায়োটেক। নানা কারণে সেই আবেদন মঞ্জুর হতে দেরি হয়। কীভাবে টিকার ট্রায়াল হবে এবং কতজনকে ইঞ্জেকশন দেওয়া হবে তার নিয়ম বেঁধে দেয় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। কৃষ্ণা এল্লার সংস্থা জানিয়েছে, তৃতীয় পর্বে ২৮ হাজার ৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবককে টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়া হচ্ছে। দিল্লি, মুম্বই, পাটনা, লখনৌ সহ দেশের ১০ রাজ্যের ১৯টি শহরে টিকার ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে। টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল রিপোর্ট দেখেই উৎপাদন শুরু হয়ে যাবে। আগামী বছর ফেব্রুয়ারির মধ্যেই টিকার পর্যাপ্ত ডোজ চলে আসবে।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে করোনার টিকা কোভ্যাক্সিন বানিয়েছে ভারত বায়োটেক। কোভ্যাক্সিন হল ইনঅ্যাক্টিভেটেড ভ্যাকসিন অর্থাৎ ভাইরাল স্ট্রেন নিষ্ক্রিয় করে বানানো হয়েছে। এই টিকার প্রথম দুই পর্বের ক্লিনিকাল ট্রায়ালে রিপোর্ট ভাল বলেই দাবি করেছে ভারত বায়োটেক। টিকার ডোজে স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংস্থার ভাইরোলজিস্টরা।
ভারত বায়োটেক জানিয়েছে, কেন্দ্রের গাইডলাইন মেনে তৃতীয় পর্বে অ্যাসিম্পটোমেটিক বা উপসর্গহীন রোগীদের উপর টিকার ডোজের পরীক্ষা হবে। ইমিউনোজেনিসিটি ডেটা অর্থাৎ টিকার ডোজে নির্দিষ্ট দিনের ব্যবধানে কতটা রোগ প্রতিরোধ শক্তি তৈরি হয়েছে তার তথ্য জমা করতে হবে।
করোনার টিকা কীভাবে দীর্ঘদিন কার্যকরী থাকবে, সে নিয়ে একের পর এক গবেষণা করে চলেছে দেশের প্রথম সারির ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা ভারত বায়োটেক। সংস্থার তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, কোভ্যাক্সিন টিকায় এমন অ্যাডজুভ্যান্ট (ইমিউন বুস্টার) ব্যবহার করা হচ্ছে যা টিকার কার্যকারিতা কয়েকগুণে বাড়িয়ে দেবে। টিকার ডোজে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও বাড়বে।
ভারত বায়োটেকের চেয়ারম্যান কৃষ্ণা এল্লা জানিয়েছেন, নতুন উপাদান আনানো হচ্ছে বিদেশ থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ভাইরোভ্যাক্স এলএলসি-র সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এই মার্কিন ফার্মার লাইসেন্স পেয়েই তাদের তৈরি অ্যাডজুভ্যান্ট অ্যালহাইড্রক্সিকুইম-২ যোগ করা হবে করোনার টিকায়। অ্যাডজুভ্যান্ট হল ফার্মাকোলজিক্যাল বা ইমিউনোলজিক্যাল উপাদান যা ভ্যাকসিনের ইমিউন রেসপন্স বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। অ্যাডজুভ্যান্ট ভাইরাল অ্যান্টিজেন বা প্রোটিনের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। বদলে রক্তের বি-কোষ ও টি-লিম্ফোসাইট কোষের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়। বি-কোষ সক্রিয় হলে রক্তে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। আর ঘাতক টি-কোষ জাগলে যে কোনও প্যাথোজেনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ শক্তি তৈরি হয়। গবেষকরা বলছেন, কোভ্যাক্সিনের সঙ্গে যদি ভাইরোভ্যাক্সের তৈরি অ্যাডজুভ্যান্ট যোগ করা যায়, তাহলে এর ক্ষমতা কয়েকগুণে বেড়ে যাবে। মানুষের শরীরে দীর্ঘদিন কার্যকরী থাকবে টিকার ডোজ।