করোনার ন্যাজাল ভ্যাকসিন আসছে খুব তাড়াতাড়ি, মার্কিন ফার্মার সঙ্গে চুক্তি করেছে ভারত বায়োটেক
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে কোভিড প্রতিরোধী ন্যাজাল ভ্যাকসিনে বিপুল উৎপাদন ও বিতরণের পথে এগোচ্ছে হায়দরাবাদের ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা ভারত বায়োটেক। ন্যাজাল ক্লোরো-ফ্লু ভ্যাকসিন নিয়ে বহুদি
শেষ আপডেট: 22 September 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে কোভিড প্রতিরোধী ন্যাজাল ভ্যাকসিনে বিপুল উৎপাদন ও বিতরণের পথে এগোচ্ছে হায়দরাবাদের ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা ভারত বায়োটেক। ন্যাজাল ক্লোরো-ফ্লু ভ্যাকসিন নিয়ে বহুদিন থেকেই কাজ করছিল ভারত বায়োটেক। জানা গেছে, এই টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের ট্রায়ালের রিপোর্ট ইতিবাচক। মার্কিন ফার্মা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে ভ্যাকসিনের ১০০ কোটি ডোজ তৈরির পরিকল্পনা আছে দেশের প্রথম সারির এই ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থার।
সেন্ট লুইসে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ভ্যাকসিন অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট ইভ্যালুয়েশন ইউনিটে এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছিল। ভারত বায়োটেক জানিয়েছে, চুক্তিমাফিক হায়দরাবাদের ওয়ার্কশপেও এই ভ্যাকসিনের বিপুল উৎপাদন শুরু হবে। আমেরিকা, ইউরোপ ও জাপান ছাড়া বিশ্বের যে কোনও দেশের বাজারেই এই ভ্যাকসিন বিতরণ করতে পারবে ভারত বায়োটেক।
সংস্থার চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর কৃষ্ণা এল্লা বলেছেন, “মার্কিন ফার্মা কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমরা গর্বিত। ১০০ কোটির বেশি ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরির পরিকল্পনা আছে আমাদের। এই ইন্ট্রান্যাজাল ভ্যাকসিন নেওয়া খুবই সহজ এবং ইঞ্জেকশন বা সিরিঞ্জের দরকার পড়বে না। ফলে টিকাকরণের খরচও অনেক কম হবে। একসঙ্গে বেশিজনকে টিকা দেওয়া যাবে।”
[caption id="attachment_262047" align="aligncenter" width="1179"]
ভারত বায়োটেকের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর কৃষ্ণা এল্লা[/caption]
ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসন এবং ফ্লু-জেন ভ্যাকসিন কোম্পানির সবযোগিতায় ‘কোরো-ফ্লু’ (CoroFlu) ভ্যাকসিন তৈরি করেছে ভারত বায়োটেক। এই ভ্যাকসিন ন্যাজাল ড্রপের মতো। শরীরে গিয়ে ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি করবে। ভারত বায়োটেক জানিয়েছে, যেহেতু ফ্লু ভাইরাস বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সঙ্গে মিল রয়েছে সার্স-কভ-২ ভাইরাসের, তাই ফ্লু ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটকেই ব্যবহার করা হচ্ছে এই ন্যাজাল ভ্যাকসিন তৈরির কাজে। ফ্লু-জেন কোম্পানির তৈরি ফ্লু ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট M2SR কে ব্যবহার করেই এই ন্যাজাল ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে।
ভারত বায়োটেক জানিয়েছে, গবেষণাগারে ইঁদুর ও অন্যান্য পশুর শরীরে এই ভ্যাকসিন খুব ভালভাবে কাজ করেছে। সেফটি ট্রায়ালের রিপোর্টও বেশ ভাল। ‘সেল’ সায়েন্স জার্নাল ও ব্রিটিশ জার্নাল ‘নেচার’-এ এই গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ভারত বায়োটেক।
ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের বায়োলজিক থেরাপিউটিক সেন্টারের ডিরেক্টর ও রেডিয়েশন অনকোলজির অধ্যাপক ডক্টর ডেভিড টি কুরিয়েল বলেছেন, ইন্ট্রান্যাজাল ভ্যাকসিনের সুবিধা হল ইঞ্জেকশন ছাড়াই এই টিকা নেওয়া সম্ভব। ন্যাজাল ড্রপের মতো এই ভ্যাকসিনের ডোজ নেওয়া যাবে। একটি ডোজেই শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি তৈরি হতে শুরু করবে। আর যেহেতু শ্বাসনালী দিয়ে এই টিকার ডোজ শরীরে ঢুকবে, তাই শ্বাসযন্ত্রের যে কোনও সংক্রমণ কমাতেও এটি সাহায্য করবে। মুখ, নাক, গলার সংক্রমণ কমাবে। আর কোনও ভ্যাকসিনের মধ্যেই এমন ক্ষমতা নেই বলেই দাবি করেছেন তিনি।