
শেষ আপডেট: 21 July 2022 14:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে ভারত ও বাংলাদেশের (Bangladesh) মধ্যে পাঁচদিনের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন শেষ হয়েছে। বাংলাদেশে এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা। ২১ জুলাই দুই দেশের মধ্যে পাঁচদিন ব্যাপী চলা যৌথ আলোচনার দলিল স্বাক্ষরের মধ্যে দিয়ে সম্মেলন শেষ হয়।
একাধিক বিষয় নিয়ে এই পাঁচদিন আলোচনা চলেছে বাংলাদেশের পিলখানায়। ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রতিনিধিদের মধ্যে হওয়া আলোচনায় উঠে এসেছে যেমন সীমান্তে হত্যার বিষয়, তেমনই সীমান্তে চলা বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজ বন্ধ করার মতো বিষয়।
বিশেষ ভাবে আলোচনা করা হয়েছে, সীমান্তে উভয় দেশের নিরস্ত্র নাগরিকদের হত্যার ঘটনা কীভাবে পুরোপুরি বন্ধ করা যায়। এজন্য সীমান্তে যৌথ টহল বাড়ানোর ব্যাপারে উভয়পক্ষ সম্মত হয়। শুধু তাই নয়, সীমান্তের আশেপাশে থাকা মানুষদের মধ্যে সীমান্ত বিধি সম্পর্কে সচেতন করতে উদ্যোগী হবে দুই দেশ।
এছাড়াও কাঁটাতার পেরিয়ে যে অবৈধ পাচার চক্র চলে তা বন্ধ করার ব্যাপারেও কথা হয়েছে। মানব থেকে শুরু করে নিষিদ্ধ মাদক দ্রব্য পাচার সবই চলে সীমান্তে। যা কঠোর হাতে দমন করার ব্যাপারে আরও তৎপর হবে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীরা।
আন্তর্জাতিক সীমানা লঙ্ঘন/অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, মানব পাচার, সীমান্ত পিলার উপড়ে ফেলা ও অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ থেকে সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে বিরত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হন। এছাড়াও সীমান্তে ১৫০ গজের মধ্যে বন্ধ থাকা উন্নয়নমূলক কাজ ফের শুরু করতে চায় দুই দেশই।
সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিজ নিজ সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির বিষয়টি তুলে ধরা হয় এই সম্মেলনে। রাজশাহী সীমান্তের চর মাজারদিয়া ও খানপুর এলাকায় বসবাসরত স্থানীয় জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে পদ্মা নদীর ভারতীয় অংশের ১.৩ কিলোমিটার চ্যানেল ব্যবহারের অনুমতি প্রদানের বিষয়ে আলোচনাও হয়। তবে এ ব্যাপারে এখনই কিছু স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফের বিএসএফের মহাপরিচালক শ্রী পঙ্কজ কুমার সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ৯ সদস্যের একটি দল। বাংলাদেশের তরফে ছিলেন ২০ সদস্যের প্রতিনিধি। সেই দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ।