
দেব- রুক্মিণী
শেষ আপডেট: 6 February 2025 14:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বক্স অফিসে এখনও পয়লা নম্বর দখল করে রয়েছে খাদান। সেখানে ‘পুষ্পা’কেও শাসন করতে দেননি দীপক অধিকারী। বরং তাঁকে ‘ঝুঁকিয়ে’ ছেড়েছেন। সদ্য মুক্তি পেয়েছে ‘বিনোদিনীও’। বৃহস্পতিবার বারবেলায় টলিউডের সেই সফল জুটিকে দেখা গেল বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলনের (BGBS 2025) মঞ্চে।
বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের ইতিহাস সুদীর্ঘ। অথচ দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, বাংলা চলচ্চিত্রে দক্ষিণের মতো লগ্নি হয় না। পুঁজি কম। খাদানের মতো বিগ বাজেটের ছবি বলতে বাংলায় যা বোঝায়, দক্ষিণে সেই বাজেটে হয়তো সিরিয়াল হয়, বা পরিচালকরা হাত পাকান।
তা ছাড়া টলিপাড়ায় এ গোষ্ঠী সে গোষ্ঠী, সিন্ডিকেট, ফেডারেশন, গিল্ড মায় এখন চচ্চড়ি অবস্থা! ছবি বানাবে কী, জট ছাড়াতে ছাড়াতে বেলা শেষের পথে। অথচ বাংলায় চলচ্চিত্র শিল্পে মেধা, অভিনয় দক্ষতা, পরিচালন ক্ষমতা, গান, সুর— কোনও কিছুরই কমতি নেই।
সম্ভবত সেই কারণেই বাংলা ছবিতে বড় লগ্নি টানার বার্তা দিয়ে এদিন টলিউডের সবচেয়ে বড় মুখ—দীর্ঘকায়, সদাহাস্য, ম্যাচোম্যানকে মঞ্চে ডেকে নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে রুক্মিনী মৈত্রও।
বাণিজ্য সম্মেলনে এদিন এক পার্শ্ব বৈঠকে বক্তাও ছিলেন রুক্মিনী। পরে বক্তৃতায় পরিচালক গৌতম ঘোষ বলেন, পশ্চিমবঙ্গ প্রাকৃতিক ভাবে ঐশ্বর্যশালী। হিমালয় থেকে সুন্দরবন কী নেই এখানে। তাই চলচ্চিত্রে লগ্নীর বড় সুযোগও রয়েছে। ফিল্ম মেকাররা এখানে ছবি বানাতে আসতে পারেন। তা ছাড়া কো-প্রোডাকশনেরও সুযোগ রয়েছে। পার্শ্ব বৈঠকে সেই প্রসঙ্গ তুলেওছেন রুক্মিনী।
গৌতম ঘোষ আরও বলেন, আমাদের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়েও রাখতে হবে। সেদিক থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা ইতিবাচক। বাংলায় শিল্প সংস্কৃতি অপার সম্ভারের কথা মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন। সারা বছর ধরে তিনি সেই ঐতিহ্য লালন করার চেষ্টাও করেন। সে জন্য আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, বুধবার বাণিজ্য সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কোনও মন্ত্রীই মঞ্চে স্থান পাননি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া একমাত্র মঞ্চে ছিলেন তাঁর মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অমিত মিত্র। যাঁর প্রশংসা করতে গিয়ে মমতা বলেছিলেন, বাণিজ্য সম্মেলনে তিনিই কি-ম্যান। মুখ্য চরিত্র। বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে যাঁর অগাধ জ্ঞান।
তবে দ্বিতীয় দিন বাণিজ্য সম্মেলন শুরু হতেই দর্শকাসনে বসে থাকা মন্ত্রীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই তোমরা নীচে বসে আছ কেন? উপরে উঠে এসো। দেখা যায়, তার পরই এবারের বাণিজ্য সম্মেলনে এই প্রথমবার মঞ্চে আসন পেলেন শিল্পমন্ত্রী শশী পাঁজা, অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, পর্যটন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, শ্রম মন্ত্রী মলয় ঘটক প্রমুখ। মঞ্চে ডাক পান দেব-রুক্মিনীও। তবে তাঁরা পাশাপাশি বসেননি। সামনের সারিতে বসেছিলেন দেব। পিছনে রুক্মিনী।