
শেষ আপডেট: 28 December 2023 11:53
মোচার ঘন্ট, শুক্তো, আলু পোস্ত, কচু শাঁক, কচি পাঠার ঝোল…বাঙালি খাবারের তালিকায় রয়েছে আরও হরেক সুস্বাদু পদ। এদিকে যে ব্যস্ততার জীবনে কোনও রকমে ভাত-ডাল রান্না করতেই ঘড়ির কাটা জানান দেয়! তাই তো গৃহস্থের হেঁসেলে হারিয়ে যাচ্ছে দিদা-ঠাম্মার বাঙালি পদ! তবে নাই বা তৈরি হল ঘরে, আজকাল রসনাতৃপ্তির সেই সুযোগই যে মেলে শহরের আনাচে কানাচে বাঙালি রেস্তোরাঁগুলিতে। শুধু এপার বাংলা নয়, ওপার বাংলার নানান পদও এইসব নামী-দামি রেস্তোরাঁয় ঢুঁ মারলেই চেখে দেখতে পারেন।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিলিতি কন্টিনেন্টাল কিংবা চিনা খাবার চোখ টানলেও পাতে যদি মোচা চিংড়ি বা বাংলাদেশি ভুনা চিকেনের মতো পদ পড়ে তাহলে তো সে স্বাদের ভাগ হবে না! কিন্তু সারা বছর কোন রেস্তোরাঁর ঠিক কোন পদটি বাঙালির পাতে সবচেয়ে বেশি উঠেছিল? উত্তর শুনলে অবশ্য ওই রেস্তোরাঁয় এখনও ঢুঁ না মারার আফসোস হতে পারে। তবু একটা আন্দাজ পাওয়া যাবে সামনের বছর কোথায় কোন পদ্গুলি চেখে নেওয়া প্রয়োজন।
কয়েক দশক আগেও বাড়ির বাইরে বাঙালি খাবার খাওয়ার প্রচলন ছিল না। নিরামিষ থেকে আমিষ, সব বাঙালি খাবার তৈরি হত বাড়ির হেঁশেলেই। কিন্তু আজ কলকাতায় সুস্বাদু, খাঁটি বাঙালি খাবারে বিশেষায়িত রেস্তোরাঁগুলি খুঁজে পেতে বিশেষ কষ্ট করতে হয় না। কাঁচা আম দিয়ে পাঠার মাংস হোক কিংবা কচু পাতা দিয়ে চিংড়ি মাছ। শুধু চিরাচরিত বাঙালি রান্নাই নয়, সঙ্গে ফিউশনের ছোঁয়া। এক কথায় বাঙালি রেস্তেরাঁগুলির মেনুতে সাবেকি বাঙালি পদগুলিই নতুনভাবে জায়গা পেয়েছে।
ধরুন, গুপি আর বাঘার মতো আপনারও হাততালি দিয়েই প্লেট ভর্তি পছন্দের খাবার খেতে ইচ্ছে হল! তাহলে আসতেই পারেন ‘ভূতের রাজা দিল বর’ রেস্তোরাঁয়। যেখানে আনাচে-কানাচে রয়েছে সত্যজিৎ রায়ের ছোঁয়া। এখানকার কচু পাতার ভাপা চিংড়ির স্বাদই এবছর ছিল সবচেয়ে বেশি পছন্দের পদ। ভূতের রাজার রাজত্বে আসবেন আর ভূতের প্রিয় কালো পোড়ার খাসির মাংস খাবেন না, তাও আবার হয় নাকি! এই পদটিও বাঙালির পছন্দের তালিকায় প্রথম দিকেই ছিল।
‘সপ্তপদী’ নামটির সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে বাঙালির নস্টালজিয়া৷ উত্তম-সুচিত্রার হাত ধরে বাঙালির রোম্যান্টিক ছোঁয়া ধরা পড়ে এই রেস্তোরাঁয়৷ সম্পূর্ণ বাঙালিয়ানাকে পাথেয় করে এগিয়ে চলেছে এই রেস্তোরাঁটি৷ মহানায়ক ও মহানায়িকার ছবির হারানো সুরের সঙ্গেই ফিস ফ্রাইতে কামড় বসানোর সে যেন এক আলাদাই আনন্দ! সঙ্গে 'সেলিব্রেশন থালি'-র রকমারি খাবারও সকলের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
পূর্ব বঙ্গীয় থেকে পশ্চিম বঙ্গীয় খাবারের স্বাদ পেতে ‘হিমুর হেঁসেল’ খুব অল্পদিনের মধ্যেই বাঙালির মন জয় করে নিয়েছে। চিটাগাং স্টাইল মটন কালা ভুনা পদটি এই বছর হিমুর হেঁসেলে সবচেয়ে বেশি হিট। সঙ্গে গন্ধরাজ খোল না খেলে কেমন যেন সব অসম্পূর্ণ থেকে যায়!
বাংলার অভিজাত বাড়ির খাবার ফিরিয়ে আনার জন্য প্রাথমিকভাবে পথচলা শুরু করেছিল ‘আহেলি’। তবে আজ কলকাতা শহরে বাঙালি খাবার খেতে সব বয়সের ভোজনবিলাসীর পছন্দ এই রেস্তোরাঁ। এখানকার ডায়মন্ড ফিস ফ্রাই, কষা মাংস, ডুমরোগন্ধি ইলিশ, বাষ্প স্নাতক ভেটকি, চিংড়ির মালাইকারি শুধু চলতি বছরেই নয়, সব সময়েই প্রথম পছন্দের। আসলে অনেক রেস্তোরাঁয় সারা বছরই বিশেষ কিছু পদের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। ঠিক ৬ বালিগঞ্জ প্লেসের ডাব চিংড়ি। ঠাকুর পরিবারের ঐতিহ্যবাহী রেসিপি মেনে এই রেস্তোরাঁয় অনেক খাবার তৈরি করা হয়।
আসছে আরও এক নতুন বছর। ২০২৪ সাল। সঙ্গে আরও এক রাশ নতুন আশা, নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন। পুরনোকে সঙ্গে নিয়ে চলছে আগতকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি। তবে বছর ভর যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন খাওয়াদাওয়ায় ভোজনরসিক বাঙালিকে হার মানাবে কার সাধ্যি!