
শেষ আপডেট: 2 February 2024 00:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলার বিখ্যাত মিষ্টি ছানাবড়া। মুর্শিদাবাদে আসবেন অথচ ছানাবড়া খাবেন না! তা হয় নাকি। যে-ই আসুক, যে কাজেই আসুক এখানকার ছানাবড়া মাস্ট। আর রাহুল গান্ধী যে ছানাবড়া বেশ পছন্দ করেন তা জানতে বাকি নেই কারও। নবাবের শহরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এলেই একবার না একবার যাবেনই বহরমপুর টেক্সটাইল কলেজ মোড়ের মিষ্টির দোকানে। এর আগেও দু’বার লোকসভা ভোটের প্রচারে এসে এই দোকানেরই ছানাবড়া তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করেছিলেন যুব আইকন রাহুল। তাই দোকানী ধরেই নিয়েছিলেন এবারও তাঁর দোকানে একবারটি হলেও আসবেন রাহুল। কিন্তু প্রচণ্ড ভিড়ের ধাক্কায় গাড়ি থেকে আর নামতেই পারেননি তিনি। ছানাবড়া খাওয়াও হয়নি।
বহরমপুর টেক্সটাইল কলেজ মোড়ের অরুণ দাসের মিষ্টির দোকানের বেশ নামডাক। স্বয়ং প্রণব মুখোপাধ্যায় এই দোকানের ছানাবড়া পছন্দ করতেন। তিনিই রাহুলকে নিয়ে এই দোকানে এসেছিলেন প্রথমবার। অরুণ দাসের হাতে তৈরি ছানাবড়া মনে ধরেছিল রাহলের। এরপরে তিনি নিজেও দু’বার দোকানে এসে ছানাবড়া খেয়ে গিয়েছিলেন। এবার ‘ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা’-এ রাহুল গান্ধী শহরে আসছেন জেনেই পেল্লায় ছানাবড়া বানাতে বসেছিলেন অরুণবাবু। জানিয়েছেন, ১০ কেজি ওজনের ছানাবড়া তৈরি করেছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন রাহুল এসে ছানাবড়া খাবেন। কিন্তু তা আর হল না। আক্ষেপটা থেকেই গেল। অরুণবাবুর আর হ্যাট্রিক করা হল না।
২০০৯ ও ২০১৪ সালে পরপর দু’বার লোকসভা ভোটের প্রচারে বহরমপুরে এসেছিলেন রাহুল গান্ধী। বহরমপুর টেক্সটাইল কলেজ মোড়ের মিষ্টির দোকানে বসে ছানাবড়া খেয়েছিলেন রাহুল। সেই ছবি বাঁধিয়ে দোকানে টাঙিয়ে রেখেছেন অরুণ দাস। রাহুল গান্ধীর বিশাল কনভয় এবারও টেক্সটাইল মোড়ে অরুণবাবুর দোকানের সামনে দিয়েই যাওয়ার কথা ছিল। ছানাবড়া সুন্দর করে প্যাক করে সাজিয়ে দোকানেই রেখেছিলেন অরুণবাবু। কিন্তু দেওয়া আর হল না।
অরুণবাবুর আক্ষেপ, “ভেবেছিলাম একবার হয়ত গাড়ি থেকে নামবে। নামলেই আমরা গিয়ে দিয়ে আসতাম ছানাবড়া। দোকানেই সাজানো ছিল। কিন্তু নামল না। শুনলাম বেরিয়ে গেছেন। এই ভিড়ে হয়ত নামতে পারেননি আর।”
শোনা যায়, মুর্শিদাবাদে ছানাবড়ার জন্ম হয়েছিল সেই নবাবি আমলেই। কথিত রয়েছে, নবাবি আমলের প্রায় শেষের দিকে মুর্শিদাবাদ শহরে নিমাই মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি শহরের বুকে একটি মিষ্টির দোকান করেছিলেন। সেই দোকানের ছানাবড়া নাকি খুব বিখ্যাত হয়েছিল। কথিত রয়েছে, সেই দোকান থেকে ছানাবড়া নিয়মিত নবাবের প্রাসাদে যেত। নবাব নিজে নাকি ছানাবড়া খুব পছন্দ করতেন। মুর্শিদাবাদের নিজামত পরিবারে ছানাবড়া যে প্রায়ই আমদানি হত সে কথা মুর্শিদাবাদে কান পাতলে সকলেই বলবে। উৎকৃষ্ট মানের ছানাবড়া তৈরির জন্য কারিগরও ছিল। এমনও শোনা যায়, কাশিমবাজারের রাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী ছানাবড়া খেতে খুব ভালবাসতেন। তাঁর হাত ধরেই মুর্শিদাবাদের বিখ্যাত ছানাবড়া জেলার গণ্ডি পেরিয়ে অনেকদূর ছড়িয়ে পড়েছিল।
বহরমপুর টেক্সটাইল মোড়ের অরুণবাবুর ছানাবড়াও দারুণ বিখ্যাত। অরুণবাবু এখনও রাহুলের মিষ্টি খাওয়ার প্লেট আলাদা সরিয়ে রেখেছেন। ওই প্লেটেই আগে দুবার ছানাবড়া খেয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। এবার সেই প্লেটে ছানাবড়া খেলেই হ্যাট্রিক হত। তবে রাহুল হয়ত পরে আবার আসবেন, তৃপ্তি করে তাঁর দোকানের ছানাবড়াও খাবেন, এই আশাতেই অপেক্ষা করবেন অরুন দাস।