দ্য ওয়াল ব্যুরো: নোভেল করোনাভাইরাসের আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ভারতেও। দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, আগ্রা, রাজস্থান, বিহার, কেরল এমনকি জম্মু-কাশ্মীরেও জারি হয়েছে চূড়ান্ত সতর্কতা। ভাইরাস সংক্রামিতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬। দেশের ২১টি বিমাবন্দরে চলছে বিশেষ থার্মাল স্ক্রিনিং। আতঙ্কের এই পরিবেশের মাঝেই নতুন উপদ্রব শুরু হয়েছে বেঙ্গালুরুতে। শহরজুড়ে থাবা বসিয়েছে কলেরার সংক্রমণ। গত সপ্তাহ থেকে কলেরা রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। পেটের রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে রোগীদের।
বেঙ্গালুরুতে প্রথণ কলেরার সংক্রমণ ধরা পড়ে গত সপ্তাহে। তারপর শহরের নানা জা{গা থেকে বিক্ষিপ্তভাবে দু’একজনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ে। ব্রুহাট বেঙ্গালুরু মহানগর পালিকের চিফ মেডিক্যাল অফিসার বিজেন্দ্র বলেছেন, শহরের নানা জায়গায় কলেরার সংক্রমণ ছড়িয়েছে। রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭। তবে এই সংখ্যা বাড়র সম্ভাবনা রয়েছে। ডায়রিয়া আক্রান্তদের মলের নমুনা পাঠানো হয়েছে ল্যাবোরেটরিতে। সেই রিপোর্ট এলে আশঙ্কা করা হচ্ছে শহরে কলেরা রোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে।
https://twitter.com/BBMPCOMM/status/1236979341629652993?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1236979341629652993&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.news18.com%2Fnews%2Findia%2Fbengaluru-civic-body-to-evict-street-vendors-after-city-records-17-cholera-cases-2531903.html
কেন্দ্রীয় গবেষণা সংস্থার রিপোর্ট বলছে, কলেরা যে নতুন করে ফিরে এল এমনটা নয়। দেশ থেকে কখনওই পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। প্রতি বছরই কিছু জীবাণু মেলে। বিবিএমপি-র চিফ মেডিক্যাল অফিসার বিজেন্দ্র জানাচ্ছেন, গত দু’বছরে কলেরার সংক্রমণ ধরা পড়েনি বেঙ্গালুরুতে। এবার আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে যা চিন্তার বিষয়। শহরের সমস্ত খোলা নর্দমা, ড্রেন বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত রোগীরা যে এলাকা রয়েছেন সেখানকার পানীয় জলের নমুনা পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
https://twitter.com/BBMP_MAYOR/status/1236991943990628352?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1236991943990628352&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.news18.com%2Fnews%2Findia%2Fbengaluru-civic-body-to-evict-street-vendors-after-city-records-17-cholera-cases-2531903.html
বিবিএমপি কমিশনার বিএইচ অনীল কুমার বলেছেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্যাম্পেন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। বিবিএমপি মেয়র তৌগম কুমার বিশেষ নির্দেশিকা জানি করে বলেছেন, শহরের সমস্ত স্ট্রিট ফুডের দোকান, ফুটপাথে হকারদের খাবারের দোকান সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। শহরের প্রতিটি এলাকার পানীয় জলের নমুনা পরীক্ষা করার কাজ শুরু হয়েছে। ডায়ারিয়ার উপসর্গ ধরা পড়লেই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে স্ট্রিট ফুড বন্ধের নির্দেশ জারি হওয়ার পরে মাথায় হাত পড়ে গেছে হকারদের। বেঙ্গালুরু স্ট্রিট ভেন্ডর অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবী বিনয় কে শ্রীনিবাস জানিয়েছেন, স্ট্রিট ফুড থেকেই কলেরা ছড়িয়েছে এটা তো প্রমাণিত হয়নি। শহরের হকাররা পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর রাখেন। খাবার তৈরির সময় ভাল জলও ব্যবহার করা হয়। কাজেই তাঁদের রুজিরুটি বন্ধ করে দেওয়ার মানে হয় না। কলেরা রুখতে স্ট্রিট ফুড ভেন্ডররাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।