
শেষ আপডেট: 5 September 2023 04:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাহাড়ে প্রতি ভালবাসা কমবেশি সব মানুষের মধ্যেই থাকে। সেই ভালবাসার টানে মাঝেমধ্যেই সুযোগ পেলেই পাহাড়ে বেড়িয়ে পড়েন, এমন লোকের সংখ্যা কম নয়। তেমনই তালিকায় পড়েন ড: ফাল্গুনী দে (Falguni Dey)। পেশায় শিক্ষক, কিন্তু নেশা তাঁর পর্বতারোহণ। একের পর এক শৃঙ্গ ছোঁয়ার স্বপ্ন তাঁর। সম্প্রতি ইউরোপের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এলব্রুস (Mount Elbrus) (৫৬৪২ মিটার) শৃঙ্গ জয় করেছেন ফাল্গুনীবাবু।
গত ১৩ অগস্ট কলকাতা থেকে রওনা দেন ফাল্গুনী। তারপর মস্কো পৌঁছে সেখান থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম রাশিয়ার ককেশাস পর্বতমালার এই শৃঙ্গ অভিযানে উদ্যোগী হন তিনি। রাশিয়ার মাকালু এক্সট্রিম নামক একটি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফাল্গুনীবাবু এই অভিযান পরিকল্পনা করেন।

প্রাথমিকভাবে, রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতি ছিল এই অভিযানের সবথেকে বড় বাধা। চারিদিকে যুদ্ধ পরিবেশ যথেষ্ট ভয়াবহ। এসব অগ্রাহ্য করেই ভিসার আবেদন করেছিলেন ফাল্গুনী দে। অভিযান শুরু করেও তিনদিন তাঁকে বেস ক্যাম্পে অপেক্ষা করতে হয়েছিল। পর্বত চড়ার শেষ ধাপে একটানা ১১ ঘণ্টা পথ চলে সাফল্যের শিখরে পৌঁছন। কিন্তু যাত্রায় প্রতিপদে প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়েছে ফাল্গুনী দে-কে। বরফের উপর ভারী ক্রাম্পন জুতো পরে হাঁটা, মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ঠান্ডা, অনবরত তুষারপাত বৃষ্টি। সব বাধা উপেক্ষা করে মাউন্ট এলব্রুসের মাথায় পতাকা পুঁতে দেন তিনি।

কর্মসূত্রে ডক্টর ফাল্গুনী দে কলকাতা যাদবপুরের বাসিন্দা হলেও জন্মসূত্রে তিনি পূর্ব বর্ধমানের অমরপুর গ্রামে থাকেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে উত্তর কলকাতার বাগবাজার উইমেন্স কলেজের স্নাতকোত্তর ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক ফাল্গুনীবাবু।
মাউন্ট এলব্রুস স্পর্শ করে ফাল্গুনীবাবু জানান, '২০২২ সালের অক্টোবর মাসে আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো (৫৮৯৫ মিটার) সফল অভিযানের পর এই বছর ইউরোপের সর্বোচ্চ শিখর স্পর্শ করে ভীষণ আনন্দ এবং তৃপ্তি অনুভব হচ্ছে। দীর্ঘ এক বছরের প্রস্তুতি এই সাফল্য এনে দিল। বাবা, মা, স্ত্রী, কন্যা পরিবার-আত্মীয়-বন্ধু সকলের ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা নিয়ে হাঁটা শুরু করি।' এরপরই তিনি যোগ করেন, এই জয়ের পিছনে তাঁর স্ত্রীর অবদান এবং উৎসাহ সবথেকে বেশি। কলেজের সহকর্মীরাও উৎসাহ তাঁকে দিয়েছেন।

কীভাবে এই অভিযানের টাকা জোগাড় করলেন ফাল্গুনীবাবু? তাঁর কথায়, 'প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার মতো ব্যয়বহুল এই অভিযানের আর্থিক সহযোগিতা মূলত ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক সঞ্চয় থেকেই হয়েছে। গত বছর আফ্রিকার কিলিমাঞ্জারো অভিযানে কিছু মানুষ সহযোগিতা করলেও এই বছর আর্থিক সাহায্য বিশেষ পায়নি। পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্বতারোহণের মতো খেলায় আর্থিক সহযোগিতার পরিবেশ নেই, এটা খুবই দুঃখজনক।"

অভিযানের শুরুতে কলেজের অধ্যক্ষা ড: অনুপমা চৌধুরী, ডক্টর দে-র হাতে জাতীয় পতাকা এবং কলেজের লোগো সম্বলিত স্মারক তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, 'মানবতাবাদের প্রচারে একটি সুন্দর এবং শান্তিপূর্ণ পৃথিবীর লক্ষ্যে তরুণ অধ্যাপক ডক্টর ফাল্গুনী দে-র এলব্রুস জয়ের এই কৃতিত্বে সমগ্র কলেজ গর্বিত।' এছাড়াও এই অভিযানের সাফল্যকে স্বীকৃতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসি প্রধান মণীশ যোশী ডক্টর দে-কে শংসাপত্র পাঠিয়েছেন।
আরও পড়ুন: প্রাথমিকে ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশে স্থগিতাদেশ বহাল! নিম্ন আদালত থেকে নথি তলব