
শেষ আপডেট: 21 November 2023 18:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিনিয়োগের জন্য কেন বাংলাকেই বেছে নেবেন শিল্পপতিরা. মঙ্গলবার বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলন থেকে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০১১ সালের আগে বাম আমলে বাংলায় শিল্পস্থাপনের জন্য ছিল না কোনও ল্যান্ড ব্যাঙ্ক। এদিন নিজের বক্তব্যে সেকথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। এই মুহূর্তে শুধু ল্যান্ড ব্যাঙ্কই নয়, রাজ্যের তরফে গড়ে তোলা হয়েছে চারটি বাণিজ্যিক অর্থনৈতিক অঞ্চলও।
সপ্তম বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলায় স্থায়ী সরকার রয়েছে। শক্তিশালী অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে। শিল্প স্থাপনের অনুকুল পরিবেশও রয়েছে। তাই ১৭টি দেশ বাংলার সঙ্গে পার্টনারশিপে এগিয়ে এসেছে।”
চা শিল্প থেকে পর্যটন, উত্তর থেকে দক্ষিণ বাংলার শিল্প সম্প্রসারণের বিস্তারিত ব্যাখ্যা এদিন তুলে ধরেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ছটি সম্মেলনে ১৯০ লক্ষ ইউএস ডলার বিনিয়োগের আশ্বাস পাওয়া গিয়েছিল। যার মধ্যে ১২০ লক্ষ ইউএস ডলার ইতিমধ্যেই বিনিয়োগ হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে রাজ্যের জিএসডিপি চার গুণ বেড়েছে। রেভিনিউ বেড়েছে চার গুণ। বাজেট বরাদ্দ বেড়েছে ৩.৮ গুণ।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "সামাজিক সেক্টর বা সোশ্যাল সেক্টরের ক্ষেত্রে আমরা বাংলা টপ অফ দি টপ। আমি আমার বাংলার মানুষকে আরো অনেক বেশি স্বাস্থ্যবান দেখতে চাই। কর্মসংস্থান এখন আমাদের প্রাইম লক্ষ্য। আমাদের রাজ্যে এখন ৯০ লক্ষ এমএসএমই ইউনিট আছে যা সারা দেশে সর্বাধিক।"
শিল্পপতিদের উদ্দেশে মমতা বলেন, "আমাদের প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে, রয়েছে প্রচুর ক্রেতা। একটি স্থায়ী সরকার এবং তার পাশাপাশি রাজ্যে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। এখানে নেই কোনও ভেদাভেদ। শিল্প স্থাপনের অনুকুল পরিবেশ রয়েছে। "
এরাজ্যের ৯০ শতাংশ মানুষকে রেশনে বিনামূল্যে চাল দেয় সরকার। মহিলাদের জন্য রয়েছে কন্যাশ্রী প্রকল্প। সরকারি স্কুলে বিনামূল্যে পড়াশোনার ব্যবস্থা। স্কুলের মেয়েদের জন্য স্কলারশিপ। চাষিদের জন্য বিমা। তখতে বসার পর কীভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে জনসাধারণের পাশে তাঁর সরকার রয়েছে এদিন তার বিবরণও দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, "পশ্চিমবঙ্গ দেশের প্রথম রাজ্য যেখানে মানুষকে সরকারের কাছে আসতে হয় না, সরকারই মানুষের কাছে পৌঁছে যায় তাঁদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বা সমস্যার কথা জানতে। আমরা যখন ক্ষমতায় এসেছিলাম তখন এই রাজ্যে ইনস্টিটিউশনাল ডেলিভারি ছিল ষাট শতাংশ, এখন সেটা পৌঁছেছে নিরানব্বই শতাংশে। এখন সবকিছুই আপনাদের দুয়ারে পৌঁছে গিয়েছে।"
তাজপুর সমুদ্র বন্দর থেকে দেউচা পাঁচামি কয়লাখনি, রাজ্যের শিল্প ক্ষেত্রে গেম চেঞ্জিং ১২টি অপরচুনিটির বিস্তারিত বিবরণও এদিন সম্মেলন মঞ্চ থেকে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কেও উপস্থিত শিল্পপতিদের অবহিত করার চেষ্টা করেন মমতা। তিনি বলেন, "কিছু রাজনৈতিক দল রাজ্যকে বদনাম করার জন্য শুধু এটাই বলতে থাকে যে বাংলায় শুধু রাজনৈতিক হানাহানি হয়।" একই সঙ্গে বিরোধীদের অভিযোগ ঘণ্ডন করে শিল্পপতিদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, " তাই যদি হতো তাহলে বাংলায় এত কাজ হল কি করে?"