দ্য ওয়াল ব্যুরো: চার বছর ধরে মুম্বইয়ের সমুদ্রের সৈকত পরিষ্কার করেছে সে। তার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে নেট-দুনিয়া। তার কীর্তির কথা রীতিমতো ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। তার আত্মার শান্তিকামনা করে মন্তব্য করেছন নেটিজেনরা। হবে না-ই বা কেন। সে যে একটি কুকুর! গত চার বছর ধরে সে সদস্য ছিল মুম্বইয়ের 'ভার্সোভা রেসিডেন্ট ভলান্টিয়ার্স' দলের। নিয়ম করে স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পরিষ্কার করেছে ভার্সোভা সৈকত! সেই চারপেয়ে ডিজেলের মৃত্যতে তাই গভীর শোক নেমে এসেছে।
এই দলের শুরুয়াৎ হয়েছিল আফরোজ শাহ নামের এক আইনজীবীর হাত ধরে। এক সময়ে মুম্বইয়ের যে বিচে আবর্জনার ওপর দিয়ে হাঁটতে গিয়ে অনেকে ঘেন্নায় নাক সিঁটকাতেন, সেই সি-বিচকেই হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে দিয়েছেন আফরোজ৷ বছর চারেক আগে কাজ শুরু করেছিলেন মাত্র দু'জন স্বেচ্ছাসেবীকে সঙ্গে নিয়ে৷ প্রথমে অনেকেই নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করেছিলেন তাঁদের। বলেছিলেন, ‘‘এ ভাবে দুয়েক দিন দুয়েক জনের পরিশ্রমে কোনেও কাজ হবে না৷''
কিন্তু তাঁদের কথায় কান দেননি আফরোজ। ভাগ্যিস দেননি!
তাই তো দিনের পর দিন ধরে চেষ্টা করে, ধীরে ধীরে উৎসাহী, উদ্যমী মানুষদের একজোট করে, প্রতি শনিবার করে সৈকত-সাফাই অভিযানে নেমেছেন তিনি। একা শুরু করা সেই কাজে এখন আফরোজের সঙ্গে থাকেন ২০০ জন করে স্বেচ্ছাসেবী৷ সঙ্গী চারপেয়ে ডিজেলও। তাদের চার বছরের লাগাতার চেষ্টায়
ভার্সোভা বিচ এখন ঝকঝক করছে।
সাধারণত সপ্তাহে ছ'দিন কাজকর্মের পরে একটা ছুটির দিনে সবাই একটু আরাম করেন৷ কিন্তু ৩৩ বছরের আফরোজ ওই ছুটির দিনই বেছে নিয়েছিলেন সৈকত সাফাইয়ের জন্য৷ সঙ্গীদের নিয়ে নিজে হাতে সাফ করতেন সৈকত। ছুটির দিনে বেড়াতে এসে যখন অনেকেই সৈকতে ছুড়ে ফেলতেন সিগারেট, চিপস বা আইসক্রিমের প্যাকেট-সহ নানা ধরনের বর্জ্য তখন তাঁদের উল্টো দিকে লড়ে গেছিলেন আফরোজ ও তাঁর দলবল। সেই দলেরই বিশ্বস্ত সদস্য ছিল ডিজেল।
https://www.facebook.com/100011791383723/posts/791888987880807/
আফরোজ কাজ শুরু করার আগে অবশ্য ভদ্রসমাজের কোনও লোকজন পা রাখতেন না এই সমুদ্র সৈকতে। রাখবেন কী করে, পুরো সৈকতটাই ছিল যেন ময়লার ভাগাড়। ময়লা, আবর্জনা, প্লাস্টিক, ফিশিং ট্রলারের তেল, মৃত জীবজন্তুর দেহাবশেষ-- কী ছিল না সেখানে পড়ে! সৈকতের আশপাশে গড়ে ওঠা বস্তির বাসিন্দারাও নিশ্চিন্তে তাদের টয়লেট হিসেবে ব্যবহার করত এই সৈকত। এক সময়ে মুম্বইয়ের গর্ব এই ভার্সোভা সমুদ্র সৈকতকে ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যেতে দেখে টনক নড়েনি প্রশাসনেরও। সব মিলিয়ে দুর্গন্ধ ও ময়লা আবর্জনার স্তূপে এক প্রকার পরিত্যক্তই হয়ে পড়ে ছিল সৈকতটি।
২০১৫ সালের জুলাই মাসে সৈকত পরিষ্কারের কাজে নামেন আফরোজ শাহ। ধীরে ধীরে প্রায় ৩০০ জন এই অভিযানে যোগ দেন। পাশে দাঁড়ায় গ্রেটার মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনও। অবেশেষে দীর্ঘ দিনের চেষ্টায় ওই সৈকত থেকে প্রায় ৫ হাজার টন জঞ্জাল পরিষ্কার করেন তাঁরা। এবং মুম্বাইবাসীর রেটিংয়ে এই মুহূর্তে নগরীর সবচেয়ে পরিষ্কার সৈকত এই ভার্সোভা বিচ। ২০১৬ সালে এই স্বচ্ছতা অভিযানকে সম্মান জানায় জাতিসংঘ-ও। ‘অ্যাকশন অ্যান্ড ইন্সপিরেশন’ বিভাগে জাতিসংঘের শীর্ষ সম্মান 'আর্থ অ্যাওয়ার্ড' পান আফরোজ শাহ।
এই গোটা কাজের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিশেষ সদস্য ডিজেল-কে হারিয়ে গোটা দলই শোকার্ত।
আরও পড়ুন...
https://www.four.suk.1wp.in/science-news-first-all-girls-team-will-represent-india-in-global-robotics-championship-to-stop-pollution-2019/