দ্য ওয়াল ব্যুরো : তৃণমূলনেত্রী পাগল হয়ে গিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সভাপতি জে পি নড্ডার গাড়ির ওপরে হামলা নিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন বিজেপির সাংসদ প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর। রবিবার তিনি মন্তব্য করেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝেছেন, এটা পাকিস্তান নয়, ভারত। হিন্দুরা ভারতকে রক্ষা করতে তৈরি। তারা মমতাকে উপযুক্ত জবাব দেবে।" রবিবার এক জনসভায় প্রজ্ঞা বলেন, "বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটে জিতবে। সেই রাজ্যে হিন্দু রাজ কায়েম হবে।"
এর পরেই প্রজ্ঞা বলেন, "মমতা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন, তাঁর শাসন শেষ হয়ে এসেছে। তিনি পাগল হয়ে গিয়েছেন।" এর পরেই একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন ভোপালের এমপি প্রজ্ঞা। তিনি বলেন, শুদ্রদের বোধশক্তি কম। তাঁর কথায়, "একজন ক্ষত্রিয়কে ক্ষত্রিয় বললে সে রাগ করে না। একজন ব্রাহ্মণকে ব্রাহ্মণ বললে সে রাগ করে না। একজন বৈশ্যকে বৈশ্য বললে সে রাগ করে না। কিন্তু শুদ্রকে শুদ্র বললে তার খারাপ লাগে। এর কারণ কী। কারণ তারা বুঝতে পারে না।"
২০০৮ সালে মালেগাঁও বিস্ফোরণে অভিযুক্ত প্রজ্ঞা এর আগেও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে তিনি কংগ্রেসের দিগ্বিজয় সিং-কে ৩ লক্ষ ৬৪ হাজার ভোটে পরাজিত করেন। বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত মে মাসে তাঁকে তিরস্কার করেছিলেন।
লোকসভায় বিতর্কের সময় প্রজ্ঞা মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসেকে বলেছিলেন দেশভক্ত। পরে তিনি ওই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন। কিন্তু মোদী বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কখনই প্রজ্ঞাকে ক্ষমা করতে পারবেন না।
গত বৃহস্পতিবার ডায়মন্ডহারবারে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে হামলার মুখে পড়েন জে পি নড্ডা। তাঁর কনভয়ের ওপরে হামলা চালানো হয়। বিজেপির একাধিক কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের নেতার গাড়ি ভাঙচুর হয়। মমতা প্রশ্ন তুলেছিলেন, এই হামলা পরিকল্পিত নয় তো? শুক্রবার নড্ডার কনভয়ে হামলা নিয়ে মুখ খোলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তিনি বলেন, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হয়ে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন, তা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না।
রাজ্যপালের কথায়, "মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ-প্রশাসনের অনেককে আমি বার বার রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছি। তা সত্ত্বেও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয়েই চলেছে। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এই রাজ্যে সংবিধান মেনে সরকার চালানো খুব কঠিন হয়ে উঠছে।"
এরপর সরাসরি নড্ডার কনভয়ে হামলা সম্পর্কে তিনি বলেন, "গতকাল যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এর ফলে আমাদের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় আঘাত লেগেছে। গণতন্ত্রের প্রত্যেকেরই স্থান আছে। সকলেই নিজের মতামত জানাতে পারেন। এক্ষেত্রে সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে না। গতকাল কিন্তু তা হয়নি।" এই প্রসঙ্গে রাজ্যপাল শিলিগুড়ির ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর কথায়, "শিলিগুড়িতে বিক্ষোভকারীদের ভয় দেখানো হয়েছিল। যারা আইন ভঙ্গ করেছিল, তাদের সাহায্য করেছে সরকার।" পরে তিনি বলেন, "গতকাল ছিল মানবাধিকার দিবস। সারা বিশ্ব ওই দিনটি পালন করছিল। গতকাল পশ্চিমবঙ্গে মানবাধিকার রক্ষিত হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য আমার কাছে উদ্বেগজনক মনে হয়েছে।"