
শেষ আপডেট: 18 October 2023 17:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: তিনি কখনও ঘরের মেয়ে উমা, কখনও কল্যাণময়ী গৌরী। আবার কখনও অসুর সংহারকারিণী দুর্গা কিংবা চণ্ডী। তবে ভেবিয়া গ্রামের মানুষের কাছে বিসর্জনের দিন ধরা দেন দেবী অন্য রূপে। লোক মুখে কথিত আছে, সেদিন নাকি দেবীকে স্থানীয় পুকুরে শুভ্র বসনে চলাফেরা করতে দেখা যায়।
বসিরহাটের সুন্দরবনের হাসনাবাদ ব্লকের মধ্যেই পড়ে ভেবিয়া গ্রাম। সেখানে দে বাড়ির পুজো ঘিরে উন্মাদনা থাকে বাসিন্দাদের মধ্যে। এই জমিদার বাড়ির পুজো ১১৬ তম বছরে পদার্পণ করল।
১৩১৪ বঙ্গাব্দে ভেবিয়ার জমিদার দীননাথ দে স্বপ্নাদেশ পেয়ে দুর্গো পুজো শুরু করেন। শতাব্দী প্রাচীন এই পুজোর আচার রয়েছে একই রকম। প্রথা অনুযায়ী প্রতিপদে দে বাড়ির চণ্ডীঘট স্থাপনের মধ্যে দিয়ে পুজো শুরু হয়ে যায়। ষষ্ঠীর দিন বাড়ির বেল গাছের নীচে হয় দেবীর বোধন।
পরিবারের এক সদস্য মুকুল দে জানিয়েছেন, পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যই বিদেশে ছড়িয়ে রয়েছে। পুজোর সময় তাঁরা সকলেই বাড়িতে উপস্থিত হন। এই কটা দিন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়। এই পুজোর সঙ্গে এলাকার মানুষের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। তাঁদের মধ্যেও আলাদা উন্মাদনা থাকে।
পরিবারের আর এক সদস্য প্রণব শেখর দে জানিয়েছেন, অষ্টমীর দিন মিষ্টি ভোগ নিবেদনের রীতি রয়েছে। সেই ভোগ গ্রামবাসীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। দেবী বিসর্জন নিয়ে এই পরিবারের বিশেষ রীতি রয়েছে। আগে একচালার দেবীপ্রতিমা ঠাকুর দালান থেকে পুকুরঘাট পর্যন্ত কাঁধে করে নিয়ে যেতেন পাশের জনজাতি গ্রামের মানুষ। কিন্তু সেই প্রথায় এখন সামান্য বদল এসেছে।
জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ আজও আসেন বিসর্জনের দিন। তারা প্রতিমাকে কাঁধে করে ট্রলিতে তোলেন। এরপর বিসর্জনের উদ্দেশ্যে ঘাটের দিকে রওনা হন। ট্রলিতে করে অভিনব সেই যাত্রা দেখতে আশপাশের গ্রামের প্রচুর মানুষ ভিড় জমান দে বাড়িতে। বিসর্জনের পর রাত হলে গ্রামের মানুষ দেবীকে শুভ্র বসনে পুকুরের উপর দিয়ে চলাফেরা করতে দেখেন বলে কথিত রয়েছে।
গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, মা তাদেরকে ছেড়ে যেতে চান না। তাই বিসর্জনের পরেও তিনি গ্রামের মানুষকে দেখা দেন।