দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাসের পর মাস রাস্তা, সড়ক অবরোধ করে (highway blocade) কৃষকদের অবস্থান বহাল থাকায় ইতিমধ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা (supreme court)। কেন্দ্রের তিন কৃষি আইন (farm laws) প্রত্যাহার চেয়ে দিল্লি সীমান্তে বসে আছেন হাজার হাজার কৃষক। তার মধ্যেই কিষাণ মহাপঞ্চায়েত (kishan mahapanchayat) রাজধানীর যন্তর মন্তরে সভা করার অনুমতি চেয়ে পিটিশন দিলে কয়েকদিন আগে তিরস্কারের সুরে শীর্ষ আদালত কৃষকদের উদ্দেশে বলে, দিল্লির গলা টিঁপে ধরেছেন, এখন ভিতরে ঢুকে বসতে চাইছেন! আর গতকালের লখিমপুরের ভয়াবহ ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিচারপতিরা সোমবার জানিয়ে দেন, দেশে প্রতিবাদের অধিকার (right to protest) চূড়ান্ত, সর্বোচ্চ কিনা, সেটা খতিয়ে দেখবেন তাঁরা।
যন্তর মন্তরে সত্যাগ্রহের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লখিমপুর খেরির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বেঞ্চ বলে, এরকম দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা হয়ে যাওয়ার পর কেউ দায় নিতে চায় না। প্রতিবাদের অধিকার চূড়ান্ত কিনা, যাচাই করে দেখা হবে। কেন্দ্রের হয়ে সওয়াল করে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেনুগোপাল বলেন, লখিমপুর খেরির মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আর কোনও প্রতিবাদ হওয়া উচিত নয়। বিষয়টি যখন সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালতে বিবেচনাধীন, তখন একই ইস্যুতে কেউ রাস্তায় নামতে পারেন না! বিচারপতি এ এম খানবিলকর, বিচারপতি সি টি রবিকুমারের বেঞ্চ চাষিদের উদ্দেশে বলে, তিনটি কৃষি আইন যখন স্থগিতই রাখা হয়েছে, তখন কীসের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে কিষাণ মহাপঞ্চায়েত! একটি পক্ষ যখন ইতিমধ্যে আইনগুলির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে, তখন প্রতিবাদ জানানোর প্রশ্ন আসছে কোথায়!
কৃষকদের সংগঠন কিষাণ মহাপঞ্চায়েত শুধু সত্যাগ্রহ নয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যন্তরমন্তরে শান্তিপূর্ণ, অহিংস সত্যাগ্রহের জন্য অন্ততঃ ২০০ কৃষককে বসার মতো জায়গার ব্যবস্থা করে দিতে নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও জানিয়েছে। তবে বেঞ্চ কোনও সিদ্ধান্ত না নিয়ে ২১ অক্টোবর পরের শুনানির দিন স্থির করেছে।
গত বছরের নভেম্বর পঞ্জাব থেকেই কেন্দ্রীয় তিন আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সূচনা হয়। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে মূলতঃ দিল্লি, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশে।