দ্য ওয়াল ব্যুরো: হিন্দু আর মুসলমানকে একই পূর্ব পুরুষের সন্তান বলেছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর এমন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মন্তব্য নিয়ে চর্চা থামতে না থামতেই বেঁকে বসলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য সাধ্বী প্রাচী। আরএসএস প্রধানের কথায় একেবারেই সায় দিতে পারলেন না তিনি। স্পষ্টই বললেন, 'যারা গোমাংস খায়, তাদের সঙ্গে আমাদের ডিএনএ মেলে না। মিলতে পারে না।'
ঠিক কী বলেছিলেন মোহন ভাগবত? রবিবার উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে তিনি বলেছিলেন, হিন্দু ও মুসলিম দুটি পৃথক সম্প্রদায় নয়। প্রত্যেক ভারতবাসীর ডিএনএ অভিন্ন। বিগত ৪০ হাজার বছর যাবৎ এটা প্রমাণিত ভারতে হিন্দু ও মুসলিম একই পূর্বপুরুষের বংশধর। ফলে আলাদা করে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যে রক্ষার কথা বলার প্রশ্ন আসে না। এদেশে তারা একসঙ্গেই আছে।
তাঁর এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এদিন রাজস্থানে সাধ্বী প্রাচী বলেন, হয়তো ভারতের জনগণের সকলের ডিএনএ এক, কিন্তু যারা গোরুর মাংস খায়, তাদের ডিএনএ কখনও আমাদের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
শুধু তাই নয়, এদিন সারা ভারতেই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন প্রযুক্ত করার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। তাঁর দাবি, যাঁদের দুইয়ের বেশি সন্তান হবে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। 'আপনার কত জন স্ত্রী আছে তাতে কোনও যায় আসে না, সন্তান দুইয়ের বেশি হতে পারবে না', বলেন তিনি। লাভ জিহাদের বিরুদ্ধেও আওয়াজ তোলেন তিনি।
গত দিন মোহন ভাগবত বলেছিলেন, যদি কোনও হিন্দু বলেন, যে কোনও মুসলমান এদেশে থাকতে পারবেন না, তবে তিনি হিন্দু নন। গরু একটি পবিত্র প্রাণী। কিন্তু কাউকে বিনা বিচারে হত্যা করা হিন্দুত্বের আদর্শের পরিপন্থী। আইন আইনের পথে চলবে কোনও পক্ষপাত ছাড়া।
দুই সমধর্মীয় সংগঠনের এমন বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়ে স্বভাবতই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।