দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা (up assembly vote) ভোটের কয়েক মাস বাকি থাকতেই কৃষকদের মুজফফরনগরে মহাপঞ্চায়েত (mahapanchayat) কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বিজেপি (bjp)। জাঠ নেতা রাকেশ টিকায়েত (rakesh tikait) বিশাল মহাপঞ্চায়েতে বিধানসভা ভোটে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটের ডাক দিয়েছেন। কিন্তু টিকায়েতের আহ্বানে বিজেপির নির্বাচনী ভাগ্যে কোনও এদিক-ওদিক হবে না,দাবি দলের নেতাদের। কেন্দ্রের তিনটি কৃষি বিল প্রত্যাহার চেয়ে এক বছরের বেশি উত্তর ভারতের কৃষকরা রাস্তায় নেমেছেন। তবে ভিন্ন সুর শোনা গিয়েছে পিলিভিটের বিজেপি সাংসদ বরুণ গাঁধীর (varun gandhi)। ট্যুইটে প্রতিবাদী কৃষকদের সঙ্গে ফের আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে তিনি লিখেছেন, লাখ লাখ চাষি জমায়েতে সামিল হয়েছেন মুজফফরনগরে। ওরাই আমাদের রক্ত, মাংস। মর্যাদা সহকারে ওদের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসা উচিত আমাদের। ওদের কষ্ট, বেদনা, দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা, সহমতে পৌঁছতে ওদের সঙ্গে কাজ করা দরকার।
বরুণের মতামতে বিজেপি নেতারা সরকারি ভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া না দিলেও দাবি করছেন, জাঠরা একজোট হলেও বা টিকায়েতের বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার ডাক সত্ত্বেও দলের ভোটে তার কোনও প্রভাবই পড়বে না। নেতাদের কেউ কেউ অবশ্য ‘ব্যাপারটা উদ্বেগজনক, স্বীকার করেও জমি পুনরুদ্ধারের প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে’ বলে জানাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রের আখচাষিদের বকেয়া মেটানো, রাজ্য সরকার ঘোষিত ন্যূনতম সহায়ক মূলয (এমএসপি) যে কোনও শক্ত চ্যালেঞ্জ প্রতিহত করবে।
আরও পড়ুন--‘প্রত্যেক দিন হার্ট অ্যাটাক হওয়ার চেয়ে একবার হওয়া ভালো’
উত্তরপ্রদেশের অন্ততঃ তিন বিজেপি নেতার দাবি, কৃষি আইন বিরোধী প্রতিবাদ, বিক্ষোভ মূলতঃ পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে, শুধু জাঠ সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেবলমাত্র জাঠ বিক্ষোভ বলে দেখা হচ্ছে, তাই তার বিরুদ্ধে অ-জাঠ গোষ্ঠীগুলি জোট বাঁধতে পারে। এই চাষিরা সম্পন্ন, সমৃদ্ধ, রাজ্যের ছোট চাষিরা এখনও আন্দোলন সমর্থনের কোনও ইঙ্গিত দেননি। টিকায়েত ও অন্যরা সমর্থক হারাচ্ছেন, মহাপঞ্চায়েতে যে ধরনের বক্তব্য শোনা গিয়েছে, তাতে তাঁরা নৈতিক কর্তৃত্বও হারাতে বসেছেন। উত্তরপ্রদেশ সরকার সূত্রের দাবি, বিশাল জমায়েত, বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটের ডাকে কিছু সাড়া হয়তো মিলবে,কিন্তু বিরোধীরা যতটা প্রত্যাশা করছেন,ততটা নয়। রাজ্যের একজন মামুলি চাষি বোঝে না, কেন এই আন্দোলন। তারা এমএসপি পাচ্ছে। এখনও কৃষি আইনে তাদের কোনও লোকসান হয়নি। আগামী দিনে আরও সরকারি সুযোগ সুবিধা ঘোষণা করা হতে পারে। রাজ্য সরকার চাষিদের সব বকেয়া মিটিয়ে দিয়েছে বলে দাবি উত্তরপ্রদেশের ক্যাবিনেট মন্ত্রী সিদ্ধার্থ নাথ সিংয়ের।
গতকালের সমাবেশে ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন নেতা টিকায়েত বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, উত্তরপ্রদেশের জনতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে সহ্য করবে না। এরকম সরকার থাকলে দেশে দাঙ্গা হবে। আল্লাহু আকবর, হরহর মহাদেব ধ্বনি শোনা গিয়েছে। ওরা বিভাজনের কথা বলে, আমরা ঐক্যের। ২২ জানুয়ারি হওয়া শেষ বৈঠকের পর থেকে কেন্দ্র চাষিদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেনি,গত ৯ মাসে ৬০০-র বেশি প্রতিবাদী চাষির মৃত্যুতে একবার শোকপ্রকাশও করেনি। আমাদের আন্দোলন দেশ বাঁচানোর।
কেন্দ্র জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ওরা আমাদের চাষের জমি, হাইওয়ে, বিদ্যুত্, এলআইসি, ব্যাঙ্ক সব বেচে দিচ্ছে, কিনছে আদানি, অম্বানির মতো কর্পোরেট সংস্থা। এফসিআইয়ের গোডাউন, বন্দর পর্যন্ত বেচে দেওয়া হচ্ছে। এই সরকারের আমলে গোটা দেশই বিক্রি হতে বসেছে।