দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশ সরকারের ২ সন্তান নীতি কার্যকর করার লক্ষ্যে বিল আনার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করল শিয়া ল বোর্ড। যোগী আদিত্যনাথ মন্ত্রিসভার প্রস্তাবিত জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিল নয়, রাজ্যের স্বাক্ষরতার হার বাড়ানোর জন্য বিল আনার দাবি করেছে অল ইন্ডিয়া শিয়া পার্সনাল ল বোর্ড। সংগঠনের অভিমত, স্বাক্ষরতার হার বাড়লে আপনা আপনিই লোকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সচেতন হবে।
বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক, শিয়া ধর্মগুরু মৌলানা ইয়াসুব আব্বাস বলেছেন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিলের চেয়ে উত্তরপ্রদেশের স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধির জন্য একটা বিল বেশি দরকারি বলে মনে করি। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিলের টার্গেট তো শুধু সংখ্যালঘুরা। কিন্তু শিক্ষার ওপর বিল এনে সরকার সহজেই নাগরিকদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির কুপ্রভাব সম্পর্কে সতেচন করতে পারবে, কীভাবে তার রাশ টানা যায়, তাও বোঝাতে পারবে। উত্তরপ্রদেশের প্রস্তাবিত জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিলের তীব্র নিন্দা করছি আমরা।
বোর্ডের সভায় হাজির লোকজনের সামনে ভাষণে শিয়া ধর্মগুরু জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিলে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। বৈঠকে ধর্ম বদল, রাজ্যের হেরিটেজ তকমা পাওয়া কাঠামোগুলির ক্রমবর্ধমান বেহাল দশা নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে পৌরহিত্যকারী মৌলানা সৈয়দ মেহন্দি অভিযোগ করেন, কিছু লোক ধর্ম বদলের নামে ইসলামের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চাইছে। আমরা পরিষ্কার বলতে চাই, ইসলামে কারও ধর্ম বদলের মতো কোনও বিষয়ই নেই। জোর করে কেউ অন্যের ধর্ম বদলাতে,কাউকে বাধ্য করতে পারে না।
প্রসঙ্গত, প্রথমে অসম, তারপর উত্তরপ্রদেশ, দুই বিজেপিশাসিত রাজ্যের সিদ্ধান্ত, জনসংখ্যা লাফিয়ে বাড়তে থাকায় সম্পদের ওপর চাপ বাড়ছে। তাই জনসংখ্যা কমাতে হবে। উত্তরপ্রদেশ জানিয়েছে, দুটির বেশি সন্তান হলে নানা সরকারি সুযোগসুবিধা, সরকারি চাকরিতে প্রমোশন, ভাতা, ইনক্রিমেন্ট মিলবে না। ভোটে লড়ার অধিকারও থাকবে না। আর দুটি বা একটি সন্তান থাকলে নানা সুযোগ সুবিধা, ভাতা পাওয়া যাবে। বছরে দুবার ইনক্রিমেন্ট হবে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, ২০২৪ এর বিধানসভা ভোটের আগে এটা স্রেফ যোগীর চমক। এর নিশানা কেবল সংখ্যালঘুরা।