দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার ভারত সফরে আসছেন মার্কিন বিদেশসচিব অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। জো বাইডেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর বিদেশসচিবের দায়িত্ব নিয়ে এই প্রথম ভারত সফরে আসছেন তিনি। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ, আশঙ্কার মধ্যেই তাঁর এই সফর। ব্লিঙ্কেন দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে। বুধবার তিনি কথা বলবেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গেও। শুক্রবার সরকারি সূত্রে এই সফরের ঘোষণা করা হয়।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন তাঁর প্রথম বিদেশ সফরের অঙ্গ হিসাবে ইতিমধ্যে ভারত ঘুরে গিয়েছেন। কিন্তু দেশে কোভিড ১৯ সংক্রমণের জেরে এতদিন ব্লিঙ্কেনের সফর স্থগিত ছিল।
বিদেশমন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্লিঙ্কেনের সফর উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বহাল রাখতে, ভারত-মার্কিন গ্লোবাল কৌশলগত বোঝাপড়া জোরদার করতে একটা সুযোগ এনে দিয়েছে। দুপক্ষই বহুমুখী ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক খতিয়ে দেখে তা আরও সুসংহত করার দিকগুলি বিবেচনা করবে। আলোচনা হবে কোভিড ১৯ মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে ওঠা, ভারত-প্রশান্তমহাসাগরীয় এলাকা ও রাষ্ট্রপুঞ্জে সহযোগিতা সহ পারস্পরিক স্বার্থবাহী আঞ্চলিক ও বিশ্বস্তরের ইস্যুগুলির ওপর। ঘটনাচক্রে নয়ের দশক থেকেই ভারত বেশি বেশি করে আমেরিকার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। একদিকে বড় শক্তি হয়ে ওঠা চিন ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বের দুই বৃহত্তম গণতন্ত্রের আদানপ্রদান বেড়েছে।
২৬ থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত বিদেশ সফরে ভারতের পাশাপাশি কুয়েত সিটিতেও যাবেন ব্লিঙ্কেন। মার্কিন বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছেন, আমেরিকার শরিকি সম্পর্ক জোরদার করায় দায়বদ্ধতা ফের স্পষ্ট হবে এই সফরে।
বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর আগস্টের শেষ নাগাদ আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। তাঁর অভিমত, এতে আর বেশি কিছু লাভ হবে না। আমেরিকার সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের যুদ্ধের অবসান ঘটানোর কথা বলেন তিনি। কিন্তু ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানে বড়সড় অগ্রগতি ঘটিয়েছে তালিবান।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত যে সুন্নি সন্ত্রাসবাদীরা আফগানিস্তান শাসন করেছে, তারা কার্যত যাবতীয় ভারত-বিরোধী সন্ত্রাসবাদীদের স্বাগত জানিয়েছে। ১৯৯৯ সালে বহু যাত্রীসহ একটি ভারতীয় বিমান ছিনতাই করে তালিবানের ঘাঁটি কান্দাহারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
আফগানিস্তানের উন্নয়নে ২০০১ থেকে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে ভারত। এতে ক্ষুব্ধ তালিবানের মদতদাতা পাকিস্তান।
তালিবান এসেই ভীতির শাসন কায়েম করায় ভারত ৫ কূটনীতিককে আফগানিস্তানের মিশন থেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। যদিও মিশন খোলা রয়েছে।
এই অবস্থায় ব্লিঙ্কেনের সফরে কী হয়, সেদিকেই নজর থাকবে পর্যবেক্ষক মহলের।