দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসে (uttarpradesh congress) ভাঙন (split) অব্যাহত! দশদিনও বাকি নেই এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা (priyanka gandhi vadra) উত্তরপ্রদেশে দলের নির্বাচনী প্রচারের সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কেন্দ্র বারাণসীতে (varanasi rally) মহা সমাবেশ করে। সেই কর্মসূচির মুখেই রাজ্যের বুন্দেলখন্ডের (buldenkhand) কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ দলীয় নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক গয়াদীন অনুরাগী, বিনোদ চতুর্বেদী, মাহোবার মনোজ তেওয়ারির সঙ্গে সমাজবাদী পার্টিতে (সপা) (samajwadi party) সামিল হলেন (exodus)।
ইতিমধ্যে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক তথা সংখ্যালঘু মুখ ইমরান মাসুদও অখিলেশ যাদবের দলের দিকে পা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, রাজ্যে বিজেপি (bjp) হারাতে একমাত্র সক্ষম সপা-ই। সব দলেরই তাদের হাত ধরা উচিত। এমনকী মাসুদ এও বলেছেন, যাবতীয় কঠিন লড়াই সত্ত্বেও প্রিয়ঙ্কা দলের অনুকূলে ভোট টানতে ব্যর্থ হচ্ছেন! ঘটনাচক্রে মাসুদ আগে ছিলেন এসপিতেই। সম্প্রতি তাঁকে এআইসিসির সচিব করে দিল্লি ইউনিটের চার্জ দেয় কংগ্রেস। সেই তিনিই প্রিয়ঙ্কায় আস্থা রাখতে পারছেন না! কংগ্রেস সূত্রের খবর, মাসুদ ও এক জাঠ নেতা দল ছেড়ে সপায় যাওয়ার তোড়জোড় করছেন। মাসুদ অবশ্য এসব নেহাত জল্পনা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রে বলা হচ্ছে, রবি বা সোমবার তিনি জাঠ নেতাকে নিয়ে অখিলেশের সঙ্গে দেখা করতে চলেছেন।
কংগ্রেসের মুখ আগেই পুড়েছে জিতিন প্রসাদের মতো হেভিওয়েট নেতা গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়ে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের মন্ত্রী হওয়ায়। তার মধ্যেই বোঝার ওপর শাঁকের আঁটির মতো অনুরাগীর ইস্তফার আঘাত সইতে হচ্ছে কংগ্রেসকে। বুন্দেলখন্ডে তাঁর ভাল প্রভাব আছে, তিনি দলিত মুখ হিসাবে বেশ জনপ্রিয়। রথ কেন্দ্রের এই প্রাক্তন এমএলএ সম্প্রতি কংগ্রেসের রাজ্য শাখার সব সভাপতি করা হয়। প্রিয়ঙ্কা তাঁকে ওই এলাকায় ভোট প্রচারের প্রস্তুতি নিতে বলেন।
সূত্রের খবর, কংগ্রেসে আর স্বস্তিতে থাকতে পারছেন না, তাঁদের কথা শোনা হচ্ছে না, এমন অভিমানেই দল ছাড়লেন অনুরাগী, চতুর্বেদী, তেওয়ারিরা।
মাত্র এক সপ্তাহ আগে কংগ্রেস ছেড়েছেন দলের প্রাক্তন বিধায়ক ও সহ সভাপতি তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমলাপতি ত্রিপাঠীর পৌত্র ললিতেশ পতি ত্রিপাঠী। তরুণ ব্রাহ্মণ মুখ ললিতেশ কোনও দলে যাননি। তাঁকে পূর্ব উত্তরপ্রদেশে দলের প্রচারের ভার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনিও ‘তাঁর কথা শোনা হচ্ছে না’ বলে ক্ষোভ জানিয়ে দল ছেড়েছেন। সূত্রের খবর, ললিতেশ যে দলেই যান, বারাণসী ও সংলগ্ন এলাকার কংগ্রেস পদাধিকারীরাও তাঁর পথে হাঁটবেন।
তার মধ্যেই শুক্রবার উত্তরপ্রদেশে দলের সব পদাধিকারীকে চিঠি পাঠিয়ে কংগ্রেস ১০ তারিখের বারাণসীর কর্মসূচিতে সামিল হতে বলেছে। সেখানে ভাষণ দেবেন প্রিয়ঙ্কা। চিঠিতে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, সব প্রাক্তন দলীয় সাংসদ, বিধায়ক, ব্লক, ওয়ার্ড কমিটি স্তরের নেতা যেন থাকেন।