
শেষ আপডেট: 21 October 2024 18:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: প্রেমিকাকে এলোপাথাড়ি ক্ষুর চালিয়ে গয়না ও টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে গেল প্রেমিক। সোমবার সকালে এই ঘটনায় তুমুল শোরগোল পড়ল ভাতার থানার কামারপাড়া গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রেমিকের সঙ্গে পরিকল্পনা করে দুজনের পালিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সেই মতো সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে আসার পর সোনাদানা ও টাকাপয়সা নিয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গিয়েছিলেন তরুণী বধূ। কিন্তু পথে নেমে দুজনের মধ্যে বিবাদ বাঁধলে প্রেমিকাকে এলোপাথাড়ি ক্ষুর মেরে প্রেমিক পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। স্থানীয়রাই রক্তাক্ত অবস্থায় ওই বধূকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। এখন বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ওই বধূ অভিযোগ করেন, পাড়ারই যুবক সুচাঁদ প্রামাণিক (২৮) তাঁর উপর হামলা চালিয়েছে। হামলাকারী সুচাঁদ বাইক নিয়ে চম্পট দিলেও শেষরক্ষা হয়নি। আধঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত সুচাঁদকে আটক করে ভাতার থানার পুলিশ।
কামারপাড়া গ্রামের সাহাপাড়া এলাকায় রাধারানি মুক্তমঞ্চ। এই মুক্তমঞ্চের সামনেই সোমবার সকালে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই বধূকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। এলাকার বাসিন্দা মিঠুন মিস্ত্রি জানান, ওই বধূকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বলেন সুচাঁদের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। সোনাদানা ও টাকার ব্যাগ নিয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে এলেও জামাকাপড়ের ব্যাগ সঙ্গে আনেননি বলে আবার বাড়িতে ফিরছিলেন। তখন দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তখন সুচাঁদ তার কাছে থাকা ক্ষুর বের করে এলোপাথাড়ি কোপ মারে। তারপর সোনার গয়না ও টাকাপয়সার ব্যাগটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
ওই বধূ বাঁচার জন্য রক্তাক্ত অবস্থায় ছুটে গিয়ে একটি বাড়ির দরজায় ধাক্কা দেন। কিন্তু ওই বাড়িতে লোকজন ছিলেন না। এরপর কোনওরকমে ছুটে এসে মুক্তমঞ্চের সামনে মাঠের উপর লুটিয়ে পড়েন। তাঁর চিৎকার শুনে মুক্তমঞ্চের সামনে এসে তাঁকে দেখতে পান এলাকার বাসিন্দারা। জানা গিয়েছে প্রায় ১৪ বছর আগে বিয়ে হয়েছে ওই মহিলার। দুই সন্তান রয়েছে। তাঁর স্বামী ভাতারের ওড়গ্রামে একটি গোডাউনে কাজ করেন। খবর পেয়ে ভাতার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তারপর অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। আধঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে ধরে ফেলে পুলিশ।