দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীর উপত্যকা (kashmir valley) ছাড়তে শুরু করলেন গত কয়েকদিনে তাঁদের টার্গেট করে একের পর এক হামলা (targetted killing, attacks), হত্যাকাণ্ডে ভীত, সন্ত্রস্ত পন্ডিতরা (pandits)। উপত্যকায় সামাজিক কাজকর্মে যুক্ত মাখনলাল বিন্দ্রুকে (makhan lal bindroo) নৃশংস কায়দায় গুলি করে হত্যায় তাঁদের কাছে স্পষ্ট বার্তা যায়, এবার বিদেয় হতে হবে ভিটেমাটি ছেড়ে। তিনদিনে চারটি খুন। বিন্দ্রু খুনের পর সরকারি স্কুলের দুই শিক্ষককে খতম করেছে জঙ্গিরা। যাঁদের একজন কাশ্মীরী পন্ডিত। আরেকজন শিখ। অর্থাত্ শুধু পন্ডিতরা নন, সামগ্রিক ভাবে নিশানায় উঠে আসছেন সংখ্যালঘুরা (minorities)।
২০০৩ সালে বদগাঁওয়ের শেখপোরায় কাশ্মীরী পন্ডিতদের ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসনে কলোনি তৈরি করা হয়। সেখানে ছেলে, ছেলে বউকে নিয়ে থাকতেন শান্তি দেবী। ছেলে ২০১৫য় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষিত স্পেশাল প্যাকেজে চাকরি পান। কিন্তু শান্তি দেবীরা আর সেখানে থাকার ভরসা করতে পারছেন না। শনিবার ভোরে ট্যাক্সি ভাড়া করে নিঃসাড়ে বাড়ি ছাড়েন তাঁরা। তাঁদের মতো কয়েক ডজন পন্ডিত পরিবার ইতিমধ্যেই চলে গিয়েছেন। তবে কলোনি ছাড়তে ভয় পাচ্ছেন অনেকে। গত কয়েকদিনের হত্যাকাণ্ডের পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক পন্ডিত জানাচ্ছেন, কলোনির ভিতরে তাও নিরাপত্তা আছে। বাইরে বেরব কীসের ভরসায়? অফিস-কাছারি আছে। কতদিন এভাবে ঘরে বসে থাকব!
সরকার চাকরি দিয়েছিল, শেখপোরায় ফ্ল্যাটও। তাই নয়ের দশকে উপত্যকা ছাড়া কাশ্মীরী পন্ডিত পরিবারগুলি ফিরে এসে নতুন করে জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু ফের অনিশ্চয়তার মুখে তাঁরা।
সোপিয়ান ছেড়ে আসা এক কাশ্মীরী পন্ডিত জানিয়েছেন, নয়ের দশকের সেই অন্ধকার সময়েও উপত্যকা ছাড়িনি। কিন্তু যেভাবে সংখ্যালঘুদের চিহ্নিত করে খুনখারাবি শুরু হল, তাতে আর ভরসা রাখতে পারলাম না।
নিহত স্কুলশিক্ষক দীপক চাঁদের বৃদ্ধ মা কান্তা দেবী দুষছেন সরকার, প্রশাসনকে। অভিযোগ, নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ব্যর্থ তারা। ছেলে কাশ্মীরে এসেছিল উপার্জন করে জীবনে দাঁড়াবে বলে,কিন্তু জীবনটাই চলে গেল যে! কেউ কেউ বলেছেন, তাঁদের কাছে কাশ্মীর এখন ‘ভূস্বর্গ নয়’, ‘নরক’। নয়ের দশক ফিরছে। সরকার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। বদগাঁও, অনন্তনাগ, পুলওয়ামা থেকে শপাঁচেক পন্ডিত পরিবার উপত্যকা ছাড়ছেন বলে জানালেন কাশ্মীরী পন্ডিত সংঘর্ষ সমিতির প্রধান সঞ্জয় টিকু। কিছু অ-কাশ্মীরী পরিবারও চলে গিয়েছে। নয়ের দশক ফিরছে। এমনটা হতে পারে অনুমান করেছিলাম। জুন মাসে লেফটেন্যান্ট গভর্নরের সঙ্গে দেখা করতে সময় চেয়েছিলাম। আজও পাইনি। আরেক কাশ্মীরী পন্ডিত সংগঠনের তথ্য, ২০২০-১১য় সরকারি পুনর্বাসন প্যাকেজে চাকরি পাওয়া বেশ কিছু লোক চুপচাপ জম্মু চলে গিয়েছেন। সরকার সংখ্যালঘু কর্মীদের ১০ দিনের ছুটি দিয়েছে, কিন্তু নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পারেনি।
এদিকে কাশ্মীরী পন্ডিত, সংখ্যালঘুদের ক্ষোভ কাজে লাগাতে সক্রিয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি। জম্মু কাশ্মীর পিপলস ফোরাম-এর ব্যানারে সংগঠিত মিছিলে পাকিস্তান-বিরোধী স্লোগান ওঠে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, শিবসেনা, বজরং দল, জাগরণ মঞ্চও মিছিল করে।