দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, হিন্দু ধর্ম ও রাজ্যের বর্তমান ডিএমকে সরকার সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ে গ্রেফতার রোমান ক্য়াথলিক ধর্মযাজক জর্জ পোন্নাইয়াকে ১৫ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিলেন কুঝিথুরাইয়েরও ম্যাজিস্ট্রেট। বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা ছড়ানোয় ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযুক্ত হয়েছেন তিনি। করোনা মহামারীর মধ্যে সভা করার জন্যও মহামারী রোগ আইনে অভিযুক্ত করা হয়েছে তাঁকে। সম্প্রতি প্রয়াত ফাদার স্ট্যান স্বামীর স্মরণসভা হয় গত ১৮ জুলাই। সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যার প্রসঙ্গও ওঠে ভাষণে। সেখানেই পোন্নাইয়া নাকি বিতর্কিত মন্তব্য করেন। স্মরণসভার আয়োজক আরুমানাই খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের জনৈক স্টিফেনকে রবিবার গ্রেফতার করা হয়।
পোন্নাইয়া গতকাল বুকে ব্যথা বোধ করায় জেলেই তাঁর চিকিত্সা হয়।
তিনি মোদী, শাহ সম্পর্কে কটূক্তির পাশাপাশি হিন্দু ধর্মের কিছু বিশ্বাস নিয়েও কটাক্ষ করেন বলে অভিযোগ। এক ডিএমকে মন্ত্রী হিন্দুদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি করেন, যা নিয়ে আপত্তি ওঠে। জনৈক বিজেপি নেতা ভারতমাতার প্রতি ভক্তিবশতঃ জুতো পরেন না। এ নিয়ে পোন্নাইয়া বলেন,আমরা চপ্পল পরি যাতে পা নোংরা না হয়, ভারত মাতার থেকে কোনও রোগে আক্রান্ত না হই। বিধানসভা ভোটে ডিএমকে-র সমর্থনে প্রচার করলেও ক্ষমতায় আসার পর তারা প্রত্যাশা পূরণ করেনি বলে অভিযোগ করেন পোন্নাইয়া।
২৪ জুলাই অবশ্য নিজের মন্তব্যের জন্য হিন্দু ভাই, বোনদের কাছে ক্ষমা চান পোন্নাইয়া, যদিও একইসঙ্গে তাঁর ভাষণের কিয়দাংশ কাটছাঁট করা হয়েছে বলে দাবি করেন। বলেন, অনেকে কাটছাঁট করা ভিডিও দেখে ভুল ধারণা করেছেন যে হিন্দু ধর্ম, বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বলেছি। আমি ও সভায় অন্য সকলে কখনই তেমন কিছু বলিনি। আমাদের কথায় প্রিয় হিন্দু ভাই, বোনেরা সত্যিই আহত বোধ করলে অন্তর থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে কখনও এমন মন্তব্য করব না।
একাধিক হিন্দু সংগঠন, বিজেপি নেতা পোন্নাইয়ার মন্তব্যের নিন্দা করে তাঁর বিরুদ্ধে গুন্ডা আইন প্রয়োগের দাবি করেন। রাজ্যের নানা জেলায় তাঁর বিরুদ্ধে ৩০টি মামলা দায়ের হয়।