দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবারই শোনা গিয়েছিল, দেওয়ালির আগেই আর একদফা আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। বৃহস্পতিবারই অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ঘোষণা করলেন তৃতীয় দফার 'আত্মনির্ভর ভারত' প্যাকেজ। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করাই ওই প্যাকেজের লক্ষ্য। অর্থমন্ত্রী বলেন, ওই প্যাকেজের মধ্যেই রয়েছে 'আত্মনির্ভর ভারত রোজগার যোজনা'। সেই প্রকল্পে অনেক নতুন চাকরি সৃষ্টি হবে।
২০২০ সালের ১ অক্টোবর থেকে কার্যকরী হবে 'আত্মনির্ভর ভারত রোজগার যোজনা'। ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ওই যোজনা চালু থাকবে। ইপিএফও-তে নথিভুক্ত কোনও সংস্থা যদি নতুন কর্মী নিয়োগ করে, তাহলে ওই প্রকল্পের সুবিধা পাবে। একইসঙ্গে যাঁরা এবছর ১ মার্চ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চাকরি হারিয়েছেন, তাঁরাও ওই প্রকল্পে লাভবান হবেন।
সেপ্টেম্বর মাসকে এই প্রকল্পের 'বেস' হিসাবে ধরা হবে। যে সংস্থায় কর্মীর সংখ্যা ৫০ অথবা তার কম, তাদের কমপক্ষে দু'জন কর্মী নিয়োগ করতে হবে। যেখানে কর্মীর সংখ্যা ৫০-এর বেশি, সেখানে নিয়োগ করতে হবে কমপক্ষে পাঁচজন কর্মী।
যে সংস্থাগুলিতে কর্মী সংখ্যা ১ হাজার বা তার কাছাকাছি এবং কর্মীরা ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করেন, সেখানে মালিকের তরফে পিএফের ১২ শতাংশ টাকা দেবে সরকার। কর্মচারীর তরফেও ১২ শতাংশ টাকা সরকার দেবে।
আবাসন ক্ষেত্রকে চাঙ্গা করার জন্য ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত 'ডিফারেনশিয়াল' বাড়ানো হয়েছে ২০ শতাংশ পর্যন্ত। ২ কোটি টাকা পর্যন্ত দামের আবাসনের ক্ষেত্রে এই ছাড় কার্যকর হবে। নির্মলা বলেন, এর ফলে ডেভলপার এবং বাড়ির ক্রেতাদের সুবিধা হবে।
এর পাশাপাশি কৃষকদের জন্য সারে ৬৬৫ হাজার কোটি টাকা ভরতুকি ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, চলতি আর্থিক বছরে প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনায় বাড়তি বরাদ্দ করা হবে ১০ হাজার কোটি টাকা। এর ফলে চাঙ্গা হবে গ্রামীণ অর্থনীতি। এছাড়া 'প্রজেক্ট এক্সপোর্ট'-এর অধীনে এক্সিম ব্যাঙ্ককে দেওয়া হবে ৩ হাজার কোটি টাকা। কোভিড সুরক্ষা মিশনে বাড়তি খরচ করা হবে ৯০০ কোটি টাকা। ভারতে কোভিডের ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণায় খরচ করা হবে সেই অর্থ।
এদিন অর্থমন্ত্রী প্যাকেজ ঘোষণা করার আগেই অর্থনীতি নিয়ে আশঙ্কার কথা শোনান রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অর্থনীতিবিদরা। তাঁরা নির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে বলেন, চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে, অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে জিডিপি বা মোট জাতীয় উৎপাদন কমেছিল প্রায় ২৪ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ফের জিডিপির সংকোচন হবে সম্ভবত ৮.৬ শতাংশ। কোনও দেশের জিডিপি পরপর দু'টি ত্রৈমাসিকে সংকুচিত হলে তাঁকে 'টেকনিক্যাল রিসেশান' বলা হয়। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ভারতের অর্থনীতিতে সম্ভবত টেকনিক্যাল রিসেশান দেখা দিয়েছে। সরকার এসম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করবে ২৭ নভেম্বর।