
জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার
শেষ আপডেট: 29 June 2024 18:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: কাঁকসায় বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন আনসার উল ইসলামের 'সাহাদাত' মডিউলের খোঁজ পাওয়ার পর এবার এসটিএফের হাতে গ্রেফতার হল মঙ্গলকোটের বাসিন্দা এক যুবক। মঙ্গলকোটের কুলসোনা গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার শেখ। পরিযায়ী শ্রমিক আনোয়ারকে চেন্নাই থেকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ।
আনোয়ারের গ্রেফতারের খবর শুনে হতবাক তাঁর পরিবার। গ্রামের বাসিন্দারা দাবি করেন, 'নিরীহ' প্রকৃতির আনোয়ার যে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে একথা তাঁরা বিশ্বাস করেন না। পরিবারের দাবি, তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।
মঙ্গলকোটের ভাল্যগ্রাম অঞ্চলের কুলসোনা গ্রামের ঢালাইপাড়ার বাসিন্দা আনোয়ার শেখ। দরিদ্র পরিবার। আনোয়ার চেন্নাইয়ে কাজ করছিলেন। অ্যাসবেসটসের ছাউনি। তাও ভেঙে গেছে। এমনই একটি ঘরে তিন নাবালিকা মেয়েকে নিয়ে থাকেন তাঁর স্ত্রী রেজিনা বিবি। রেজিনা জানান, শুক্রবার বিকেল নাগাদ তিনি ফোনে খবর পান তাঁর স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রেজিনা বলেন, "পরে জানতে পারি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে ওকে ধরা হয়েছে। আমার স্বামী এই ধরনের কাজ করতেই পারেন না।"
আনোয়াররা তিন ভাই পাঁচ বোন। ২০ বছর আগে তাঁদের মা মারা যান। বাবা আনিসুর রহমান দ্বিতীয় বিয়ে করে গ্রাম থেকে চলে যান। বিধবা নিঃসন্তান মাসি জাবিদা বিবি আনোয়ার সহ ভাইবোনদের দায়িত্ব নেন। তিনি কুলসোনা গ্রামেই থেকে যান। জাবিদা বিবি বলেন,"আমরা খুব গরিব পরিবার। লোকের কাছে চেয়েচিন্তে ওদের বড় করেছি। এখন ওরা খেটে খায়। ওরা কেউ জঙ্গি হতে পারে না।"
তিন ভাইয়ের মধ্যে মেজ আনোয়ার। বড়দাদা আলিম শেখ মোটরভ্যান চালান। ছোট ভাই সেলিম চেন্নাইয়ে একটি চামড়ার কারখানায় কাজ করেন। আনোয়ার আগে উত্তরপ্রদেশে কাজ করতেন। পরে চেন্নাই চলে যান। সেখানে একটি লন্ড্রিতে কাজ করতেন। শুক্রবার চেন্নাইয়ের ভিরুগামবাক্কম এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। শুক্রবারই চেন্নাই আদালতে পেশ করা হয় তাঁকে। ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে এসে শনিবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয় আনোয়ারকে।বিচারক ১৪ দিন তাকে এসটিএফ এর হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। এসটিএফের দাবি, ২০২০ সাল থেকে হোয়াটসঅ্যাপে এবং ব্লগের মাধ্যমে কোনও এক যুবকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জেহাদি হয়। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা সেখ আনোয়ারের।
সম্প্রতি পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসা থেকে গ্রেফতার করা হয় মহম্মদ হাবিবুল্লাকে। পরে হাওড়া স্টেশন থেকে গ্রেফতার করা হয় হাবিবুল্লার এক সঙ্গীকে। অভিযোগ, হাবিবুল্লার গ্রেফতারির পরেই চেন্নাই পালিয়ে যায় আনোয়ার। গ্রামবাসী মিরাজ শেখ, সাইদুর রহমানরা বলেন, "আমরা অবাক হয়ে গিয়েছি। আনোয়ার নিরীহ প্রকৃতির ছেলে। অতি দরিদ্র পরিবার। রুজি রোজগারের স্বার্থে বাইরে কাজ করতে যেতে হয়েছে। আমাদের মনে হয় কোথাও ভুল হচ্ছে। ভালো করে খতিয়ে দেখা উচিত।"