
অসহায় বৃদ্ধ, নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 12 July 2024 15:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: পরিত্যক্ত আবাসনের ভেতর থেকে ভেসে আসছিল গোঙানির শব্দ। তা শুনেই ভেতরে উঁকি দিলেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। আর চোখ কপালে উঠল তাঁদের। একটি ভাঙা খাটের সঙ্গে চার হাত পায়ে দড়ি বেঁধে রাখা হয়েছে বৃদ্ধকে। চোখ দিয়ে ঝরে পড়ছে অশ্রু। ডেঙ্গির সার্ভে করতে এসে যে এমন ঘটনার সাক্ষী হতে হবে বুঝতে পারেননি তাঁরা। লোক জানাজানি হতেই হইচই পড়ল দুর্গাপুর নগর নিগমের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জয়দেব এভিনিউতে।
দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী মাগারাম ঘোষ। অশীতিপর এই বৃদ্ধের তিন ছেলে। এক ছেলে ইস্পাত কারখানারই কর্মী আর দুই ছেলে বেসরকারি সংস্থার কর্মী। দুর্গাপুরেই অন্যত্র পরিবার নিয়ে বাস করেন তাঁরা। অসুস্থ বৃদ্ধ বাবার জায়গা হয়নি তাদের কারও বাড়িতেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার পরিত্যক্ত একটি আবাসন দখল করে সেখানে খাটের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে তাঁরা শুইয়ে রেখেছে বাবাকে।
শুক্রবার সকালে দুর্গাপুর নগর নিগমের স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি ডেঙ্গি সার্ভে করছিলেন। তখনই এই অমানবিক ঘটনা তাঁদের নজরে আসে। খবর দেওয়া হয় প্রাক্তন কাউন্সিলর মণি দাশগুপ্তকে। খবর শুনেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই বৃদ্ধর বড় ছেলে দয়াময় ঘোষকে ডেকে পাঠিয়ে তুলোধোনা করেন তিনি। খবর দেওয়া হয় দুর্গাপুর থানার পুলিশকেও।
এরপর সবাই মিলে অসুস্থ বৃদ্ধ মগারাম ঘোষকে হাত পায়ের দড়ি খুলে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে। বড় ছেলে দয়াময় বলেন, "বাবা এখানেই থাকতেন। সেই জন্য এখানেই রাখা হয়েছে। বাবার চিকিৎসা চলছিল। যাতে খাট থেকে না পড়ে যায়, সেই জন্য দড়ি বেঁধে রাখা হয়। আমি নিয়মিত আসি, বাবার দেখভাল করি। সংসারের অবস্থা খারাপ হওয়ায় বাবার বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। সেই জন্য বাবাকে দখল করা আবাসনে রাখা হয়।" তবে তাঁর দাবি অমানবিক কিছু হয়নি।
প্রাক্তন কাউন্সিলর মনি দাশগুপ্ত বলেন, "এমন নির্মম ঘটনা আগে কোনওদিন দেখিনি। মাগারামবাবু খুবই ভালো মানুষ। কিন্তু তার ছেলেরা যে এরকম করতে পারে তা কল্পনাও করতে পারিনি। আমি পুলিশকে বলেছি প্রয়োজনে ছেলেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে। এই ধরনের ঘটনা যাতে সমাজে না ঘটে সেই নিয়েও সচেতনতা বাড়াতে হবে।"